ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে ডাকা বিক্ষোভের আগে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার সিজেপি ও কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের ডাকে এই কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তবে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ধরপাকড় অভিযান শুরু করে। মানসিক স্বাস্থ্য দিবস / ‘আমি সুস্থ, বাড়ি ফিরে যেতে চাই’। আইসিইউ সংকট, প্রতিদিন ‘কঠিন’ হচ্ছে ডেঙ্গু যুদ্ধ। হোপের তাণ্ডবে ম্যাচ হেরে বোলারদের পাশে দাঁড়ালেন গম্ভীর।
সিজেপির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শুরুর আগেই দলের মূল নেতৃত্বকে অকার্যকর করতে দিল্লি পুলিশ এ পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়েছে। চলাচলের স্বাধীনতার এই লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলটির পক্ষ থেকে আটক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। মুম্বাই থেকে রওনা হওয়ার আগে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সরকার আটক বা গ্রেপ্তার করলেও তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না। তিনি গণতন্ত্র ও অবাধ নির্বাচন রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তর এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে প্রায় ৭ হাজার মানুষ সমবেত হতে পারেন বলে গোয়েন্দা তথ্যে ধারণা করছিল পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও সংযম দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে এমন অন্তত ১০০ জনকে রাতভর অভিযান চালিয়ে আটক করেছে পুলিশ। 🚨 ABHIJEET DIPKE, SAURAV DAS AND ASHUTOSH RANKA DETAINED FROM INSIDE THEIR FLIGHT 🚨 Shame on you @narendramodi @AmitShah https://t.co/hXl6bzh53i। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, আটকের পর তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে পুরো দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। সংবেদনশীল কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজধানীর দিকে আসা কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকেও যেন বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সমন্বয় করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে রামলীলা ময়দানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পোনা সংকটে বিপাকে গলদা চাষিরা, উৎপাদনে না ফিরলে বন্ধ হ্যাচারির লাইসেন্স বাতিল। বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) প্রয়োগ করুক, জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) প্রয়োগ করুক—যা ইচ্ছা করুক। দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার এবং সমর্থকদের ওপর অভিযানের সমালোচনা করে দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, এসব পদক্ষেপ শক্তির লক্ষণ নয়, বরং নিজের জনগণকে ভয় পাওয়া এক নেতার চিত্র তুলে ধরে।
কড়া নিরাপত্তা ও ধরপাকড়ের মধ্যেও অনেক সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে অংশ নিতে চেয়েছেন। তেমনই একজন হরিয়ানার ফরিদাবাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী গীতিকা। ভোর ৪টায় পরিবারকে না জানিয়ে তিনি যন্তর মন্তরে পৌঁছান। তার ভাষ্যমতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও কোনো তদন্ত না হওয়াটা তার মতো সাধারণ নাগরিককে ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি মনে করেন, বিষয়টি এখন ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও পুলিশি বাধা ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি তাকে কিছুটা ভীত করেছিল, কিন্তু পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত তাকে বিক্ষোভে যোগ দিতে প্ররোচিত করেছে।