ভারতের নির্বাচন কমিশনের নেওয়া ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েক কোটি যোগ্য নাগরিক তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এই পুরো পরিকল্পনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সক্রিয় যোগসাজশ রয়েছে বলে বিরোধীরা মনে করছেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, জ্ঞানেশ কুমারের অধীনস্থ অপর দুই নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা সংশোধনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার সঙ্গে মতভেদ প্রকাশ করেছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংশোধনের নামে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধা নিশ্চিত করার অভিযোগ তুলে আসছে।
তবে এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি—উভয় পক্ষই এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।