প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের দায়ে স্বাধীন কমিশনের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটিই ছিল ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম ম্যাচ। অ্যানফিল্ডের গ্যালারিতে পা রাখতেই লিভারপুল সমর্থকরা তাদের ‘প্রতারক’ বলে দুয়ো দিতে থাকেন। গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছিল ‘এক প্রজন্মের সমর্থকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে’ লেখা বিশাল সব ব্যানার। এমন প্রতিকূল পরিবেশে খেলা সহজ ছিল না, তবে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে সব আলোচনার ইতি টেনেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে তিন পয়েন্টের ব্যবধান ফিরিয়ে এনেছে সিটি। রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, বিস্ফোরণের শব্দ ও অগ্নিকাণ্ড। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফিশন বিক্রিয়া’ শুরু। ‘প্রতারক’ দুয়োর জবাব মাঠেই দিল ম্যানসিটি। মাঠে নামতেই প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কাছ থেকে একের পর এক ‘প্রতারক’ দুয়ো। এমন উত্তপ্ত পরিবেশেও মাথা ঠান্ডা রাখে ম্যানচেস্টার সিটি।
ম্যাচ শুরুর আগে সিটির সমর্থকরা অবশ্য পাল্টা জবাব দিয়েছেন ক্লাবের মালিকপক্ষের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। তাদের হাতে দেখা যায় ‘ইন খালদুন উই ট্রাস্ট’ লেখা পতাকা। মাঠের খেলায় প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক ছিল। কোনো পক্ষই গোল করার মতো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে না পারায় প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। ছিলেন হজ কাফেলায়, রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ গেল নাসরুল্লাহর।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লিভারপুল আক্রমণের গতি বাড়িয়েছিল। ভিক্টর মুনোজ ও রায়ান গ্রাভেনবার্খের জোরালো শট প্রতিহত করে সিটির জাল অক্ষত রাখেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। উল্টোদিকে হালান্ড নিজেও একক প্রচেষ্টায় গোল করার সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশায় ভুগেছেন। তবে শাস্তি কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় লিভারপুলের মিডফিল্ডার রায়ান গ্রাভেনবার্খের লাল কার্ডের কারণে। জেরেমি ডকুকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া লিভারপুলের রক্ষণভাগ এরপর সিটির ক্রমাগত আক্রমণের মুখে পড়ে। মেসির দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ ফুটবলের সেরা ১০ তারকা।
৬৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে গোলের খরা কাটান আর্লিং হালান্ড। লিড পাওয়ার তিন মিনিট পরই সিটির ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা জেরেমি ডকু। তার জোরালো শট লিভারপুলের জালে জড়ালে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যায়।
৭৮ মিনিটে ফরাসি ফুটবলার রায়ান শেরকি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আরও একটি গোল করলে সিটির জয় নিশ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়ে অ্যানফিল্ড ত্যাগ করেন আর্লিং হালান্ডরা। এদিকে, প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের রায়ের বিরুদ্ধে ক্লাবটি ইতোমধ্যে আপিল করেছে। যদিও প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার, পয়েন্ট কর্তন কিংবা অবনমনের মতো কঠোর শাস্তির শঙ্কা এখনো ক্লাবটিকে ঘিরে রেখেছে। তবে মাঠের এমন পারফরম্যান্স শিরোপা লড়াইয়ে তাদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে।