বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত মুখ বৃষ্টি প্রামাণিক এখন জীবনের কঠিনতম সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেট ফোরামে (বিআরইউডিএফ) বিতর্ক চর্চাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল সবার নজরকাড়া। সংগঠনটিতে তিনি সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তিনি যে কোনো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তুলতেন। একাডেমিক কার্যক্রমের বাইরেও তার গঠনমূলক কর্মকাণ্ড, বিনয়ী আচরণের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার কাছে খুব পছন্দের ছিল। প্রথম যখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, তখনই সে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ফোরামে (বিআরইউডিএফ) বিতর্ক শুরু করে। যেকোনো অনুষ্ঠানে তার উপস্থাপনা প্রাণবন্ত-সাবলীল। উপস্থাপনাগুণে অনুষ্ঠান প্রাণ লাভ করত। বন্ধুসভার সঙ্গেও বৃষ্টি যুক্ত ছিল। আমি উভয় সংগঠনের উপদেষ্টা থাকার কারণে অনেক কাজে তার সঙ্গে আমার যোগাযোগও ছিল।
শিক্ষাজীবন শেষে বৃষ্টি কর্মজীবনেও প্রবেশ করেছিলেন। ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি যক্ষ্মা কর্মসূচির প্রোগ্রাম কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বন্ধুসভা রংপুরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন বৃষ্টি; গত ৭ আগস্ট তার বাগ্দান সম্পন্ন হয় এবং আগামী ১৩ ডিসেম্বর বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বিয়ের প্রস্তুতির মাঝেই ধরা পড়ে তার শরীরে মরণব্যাধি ক্যানসার। বর্তমানে তার কাছে ক্যারিয়ার বা সংসার গৌণ, এখন একমাত্র লক্ষ্য সুস্থ হয়ে ফিরে আসা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার সুস্থতার জন্য ভারতে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, যার খরচ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। তার পরিবারের পক্ষে এই বিশাল ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। সে লেখাপড়া শেষে চাকরিতেও যোগদান করেছে। বাগ্দানের পর বিয়ের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা কেনাকাটাসহ যখন নানা রকম প্রস্তুতি এবং নতুন সংসারের জীবন নিয়ে পরিকল্পনা চলছিল, ঠিক তখনই জানা যায়, বৃষ্টির শরীরে ভয়ংকর ব্যাধি ক্যানসার দানা বেঁধেছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা বৃষ্টির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মানবিক সহায়তা পেলে বৃষ্টি আবার সুস্থ হয়ে তার স্বাভাবিক কর্মময় জীবনে ফিরে আসতে পারবে বলে বিশ্বাস স্বজনদের।