অঞ্চলজুড়ে চরম সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেও ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা ও মধ্যস্থতা সচল রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে এই তথ্য নিশ্চিত করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি। উভয় পক্ষই কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে যুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই পরোক্ষ ও পর্যায়ভিত্তিক সংলাপ এখনো থামেনি। আলোচনার গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না আসার অর্থ হলো মধ্যস্থতাকারীরা সফলভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আলোচনার গোপনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বিষয়ে মিডিয়ায় বিস্তারিত তথ্য না আসাই প্রমাণ করে মধ্যস্থতাকারীরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আল-আনসারি সতর্ক করেন যে, সংঘাত অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিলে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, যা বৈশ্বিক শান্তিকেও চরম হুমকির মুখে ফেলবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা পুরো অঞ্চলকে এমন এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক শান্তিকে বিঘ্নিত করবে।
সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রিয়াদের নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপে দোহার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এছাড়া অতীতে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার কারণেই নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আঞ্চলিক সংকটগুলোর সমন্বিত সমাধানের ওপর জোর দেন। সম্প্রতি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় রিয়াদের পাশে শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। যেকোনো যুদ্ধবিরতি মূলত একটি স্থায়ী গন্তব্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে।