1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান নাহিদ ইসলামের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীকে দাঁড়িপাল্লা, পরিবর্তনের উদ্যোগ দাম্মামের পথে বিমান, নিরাপত্তাশঙ্কার মধ্যেই ৩৭৯ যাত্রী নিয়ে দামুড়হুদায় ১৮ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি: মুসলিম বিশ্বে নতুন ভূকৌশলগত ভারসাম্য প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় তেল ও এআই স্থাপনায় আঘাতের ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে গুঁড়িয়ে কোমোর অবিশ্বাস্য জয়, নায়ক নিকো পাজ মাটি ছেড়ে আকাশে উড়বে টেসলার নতুন রোডস্টার

প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে প্রতিনিয়ত ঘটছে প্রকাশ্যে গুলির ঘটনা। চায়ের দোকান, মসজিদ কিংবা নিজ বাড়িতেও এখন নিরাপদ নয় মানুষ। হেলমেট পরিহিত অপরাধীরা মোটরসাইকেলে এসে অতর্কিত গুলি চালিয়ে মুহূর্তেই গা ঢাকা দিচ্ছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলো অপরাধীদের হাতে কীভাবে আসছে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কখনো চায়ের দোকানের সামনে, কখনো মসজিদের পাশে, আবার কখনো নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে মানুষকে। সজ্জনকান্দা মধ্যপাড়া মসজিদসংলগ্ন একটি দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। অস্ত্রধারীদের দৌরাত্ম্যের আরেকটি ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায় খুলনায়। তবে এখনও আশানুরূপ সফলতা দেখা যাচ্ছে না।’।

চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলি করে হত্যা করা হয় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই ধারাবাহিকতায় ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল সরদারকে গুলি করে প্রাণ কেড়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পুলিশের তথ্যমতে, পিয়ারুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও হত্যার অভিযোগে অন্তত ১৩টি মামলা ছিল। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। এ ঘটনায় ১৮ অক্টোবর একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রতিপক্ষের কেউ কেউ হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।’।

একই রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তারেক হোসেন বাপ্পি নামে এক যুবক নিহত হন। অলিনগর এলাকায় সেই হামলায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। খুলনার রূপসাতেও গত ৫ অক্টোবর আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যার প্রায় ৫০ দিন আগেই তাঁর ছেলে জয় ঢালীকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়েছিল। ছেলের হত্যা মামলার বাদীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। বুকে গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে ৪ অক্টোবর খুলনার দিঘলিয়ায় নাসিমুল গণি করিমকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়। এছাড়া গত ১৭ অক্টোবর রাতে খুলনা নগরীর পশ্চিম টুটপাড়ায় শেখ জুম্মান রহমান বিশালকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে হেলমেট পরা হামলাকারীরা। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হামলাকারীরা তাঁর মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

শুধু জেলা শহর নয়, রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাও লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক এই অপরাধ থেকে রেহাই পায়নি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের আরশীনগরে ফরহাদ হোসেনকে সেলুনে ঢুকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে ১২ জুন রামপুরা-হাতিরঝিল এলাকায় ইয়াসিন খান পলাশ এবং ৭ জানুয়ারি কাওরান বাজারে এক ব্যক্তি একইভাবে হত্যার শিকার হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কাওরান বাজারে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের পেছনে গুলি করে হত্যা করা হয় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৬৫৯টি হত্যা মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৮৮১টি মামলা হয়েছে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের ব্যবধানে।

অস্ত্রের উৎস নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অপরাধী চক্রের কাছে অবৈধ অস্ত্র আসার প্রধান উৎস হলো সীমান্তপথে চোরাচালান। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা ও স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫ হাজার ৭৬৩টি লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার ৪৫৭টি। এখনও ১ হাজার ৩০৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ড নতুন করে সামনে এনেছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার, অপরাধীদের দুঃসাহস এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকে’ নামে একটি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন। রাজধানীতেও থামছে না লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। শুধু অস্ত্র নয়, একই সময়ে লুট হওয়া ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদের মধ্যে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি উদ্ধার হয়নি। ফলে লুট হওয়া একটি অস্ত্র কতবার হাতবদল হয়েছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমানে কতটি রুট সক্রিয় এবং কোন পথে কী পরিমাণ অস্ত্র প্রবেশ করছে, সে বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি। অস্ত্রের সন্ধানদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা এবং সরকারি নিয়মে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের ঘটনাগুলো উদ্বেগজনক।

তদন্তে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের একটি অভিযানে পুলিশের দিকে ছোড়া গুলি ও মিরপুরে উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলের সাথে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মিল রয়েছে। দীর্ঘ দুই বছরেও সব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা না যাওয়ায় উদ্বেগের পারদ ক্রমেই বাড়ছে। চট্টগ্রামে গত আগস্টে এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের অভিযানে পুলিশের দিকে ছোড়া গুলিতে ব্যবহৃত পিস্তল পরীক্ষা করে সেটি ২০২৪ সালে কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. কুদরাত-ই-খুদা মনে করেন, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতেই এমন সহিংসতা বাড়ছে।

অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর দলীয় অবস্থান শক্তিশালী করার প্রবণতাও এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে কাজ করছে। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমের মতে, সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা ছোট আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধার করা কঠিন কাজ, তাই চলমান অভিযানগুলোকে আরও জোরদার করা জরুরি। সবাই চেষ্টা করছে, কিন্তু এই চেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে।’।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, অস্ত্রধারী অপরাধীরা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীর বিভিন্ন ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ তৎপরতা দেখাচ্ছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এই ব্যাটালিয়নের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun