পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস (পিআইএ) তাদের কেবিন ক্রুদের জন্য নতুন পোশাকের নকশা জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন পোশাকের ব্যবহার শুরু হবে। সংস্থাটির সদ্য লিজ নেওয়া বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের লন্ডন থেকে ইসলামাবাদগামী উদ্বোধনী ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো কেবিন ক্রুরা নতুন এই পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। গত ২২ অক্টোবর পিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই পোশাকের নকশা প্রকাশ করে।
নতুন পোশাকের এই নকশাটি করেছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার হাসান শেহেরিয়ার ইয়াসিন। ডিজাইনার হিসেবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, দেশের পতাকাবাহী বিমান সংস্থার জন্য পোশাক তৈরি করতে পারাটা তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের বিষয়। এই পোশাকে আধুনিক ফ্যাশনের ধারার পাশাপাশি পাকিস্তানের ঐতিহ্য এবং আতিথেয়তার আমেজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিমান সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিআইএর ব্র্যান্ড পরিচিতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের উড্ডয়নের সাথে নতুনভাবে তাদের সেবা উপস্থাপন করবে। নতুন পোশাক চালুর পাশাপাশি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের উদ্বোধনী ফ্লাইটকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক রুটে নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পিআইএ। এতে অংশ নেন দেশটির একাধিক পরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার ও প্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘ সময় ধরে বিমানে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে পোশাকের কাটিং ও কাপড়ের গুণগত মানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে আরামদায়ক এবং বাতাস চলাচলের উপযোগী কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে, যা কেবিন ক্রুদের দীর্ঘ যাত্রায় স্বস্তি দেবে। করাচিতে আয়োজিত এক প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নকশা চূড়ান্ত করা হয়। এতে মাহিন খান, দীপক ও ফাহাদ, জেনারেশন, ইসমাইল ফরিদ, মুনিব নওয়াজ, দীপক পারওয়ানি, ফারাজ মানান ও আমির আদনানের মতো দেশের প্রথম সারির ডিজাইনাররা অংশ নিয়েছিলেন। নোমি আনসারির ডিজাইন করা পোশাকে গত ১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন পিআইএর কর্মীরা। পিআইএর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘপথের ফ্লাইটে কর্মীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও কার্যক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে।
পোশাক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিচারক হিসেবে ছিলেন ফ্যাশন ও পোশাকশিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। প্যানেলে যুক্ত ছিলেন খাদি প্রতিষ্ঠানের সিইও শামুন সুলতান, ডিজাইনার নিলোফার শহীদ, সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ নাবিলা, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইনের উপাচার্য হিনা তাইয়্যেবা খলিল এবং পিআইএতে ৩৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাসিম তেহরানি। পিআইএর পোশাকের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক যোগসূত্র নতুন নয়; ১৯৬৬ সালে ফরাসি ডিজাইনার পিয়েরে কার্দাঁ এবং সত্তরের দশকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ডিজাইনার স্যার হার্ডি অ্যামিসও এর নকশায় অবদান রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পোশাক ডিজাইনার স্যার হার্ডি অ্যামিসও ১৯৭০-এর দশকে পিআইএর পোশাকের নকশায় অবদান রাখেন।