1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঝিনাইদহে পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার ইলিশ মাছের পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি সতর্কতা সব হাট-বাজারে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ: সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি শাহজালালে ৩৬ ভরি স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার ৩ জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে ১৪১ মিলিয়ন ডলার দিল কাতার ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্যের জেরে পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদের ইঙ্গিত ডিএমপির ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের পদযাত্রা: ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি রামুতে জাতিসংঘ সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর সাবেক স্বামীর স্বীকারোক্তি ও

সংবিধান সংশোধন কমিটি: বিরোধী দলের আপত্তি ও দ্বিমুখী অবস্থান

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সংসদে ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিরোধী দল। তাদের ভাষ্যমতে, জনগণের রায়ের প্রতিফলন হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করার কথা থাকলেও সরকার সে পথে না হেঁটে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা জনমতের পরিপন্থী। সরকার ও বিরোধী দলের এই বিপরীতমুখী অবস্থানে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা-অসুবিধা কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতা-সংখ্যালঘিষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রহণ বা বর্জনের বিষয় নয়।

গত ১৬ই জুন জাতীয় সংসদের এলডি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, সংবিধান সংশোধনের এই বিশেষ কমিটিতে তাদের দল কোনো প্রতিনিধি দেবে না। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও এ কমিটিতে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, জনগণের মূল প্রত্যাশা ছিল সংবিধান সংস্কার, যা ভোটের মাধ্যমেই প্রমাণিত। তাই সরকার যদি সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংস্কারের লক্ষ্যে বিশেষ কোনো কাঠামো তৈরি করে, কেবল তখনই তারা বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ পাবে। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতনিধির নাম চাওয়া হলেও তারা নাম দেননি।

এই অচলাবস্থার মূলে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ। ২০২৫ সালের ১৩ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেন। এর আওতায় ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোটের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৮৪টি বিষয়ে সংস্কারের পথ তৈরি হয়, যার মধ্যে ৪৮টি বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন ছিল। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ এই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর সেই গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি। পরিবর্তে ১৩ই জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধি চেয়েও পাওয়া যায়নি। বাকি বিষয়গুলো নির্বাহী আদেশ ও আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে বলা হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ওই আদেশ অনুসারে ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারকাজ শেষ করতে হবে। কমিটি নিয়ে মুখোমুখি সরকার-বিরোধী দল: এর আগে গত ২৯শে এপ্রিল বিএনপি ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল।

সরকারের পক্ষ থেকে কমিটির গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আইনি নিয়ম মেনে জাতীয় সংসদে যেকোনো সংশোধনী আনাই এক ধরনের সংস্কার। ২০শে সেপ্টেম্বর কমিটির এক বৈঠক শেষে তিনি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে পেশ করা হবে। তবে বিরোধী দলের দাবি, গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে কাজ করা অনৈতিক। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, যেখানে সংস্কারের বিষয়ে আগে থেকেই ঐকমত্য ছিল এবং জনগণ গণভোটে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেখানে নতুন করে কোনো কমিটির প্রয়োজন নেই। এটি কার্যকর কোনো ফলাফল বয়ে আনবে না।

এনসিপি’র নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য ও মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের বদলে সংশোধন কমিটি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন সরকারকে করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার পুরো প্রক্রিয়াটি ওলটপালট করে দিয়ে নতুন করে শুরু করছে, যার কোনো নৈতিক বৈধতা নেই। তার মতে, সরকার এককভাবে সংশোধন করতে চাইলে তা হয়তো সম্ভব, তবে এর পরিণতি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ঝুঁকি থেকে যাবে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, গণভোটের রায় অমান্য করে এমন কোনো প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য যে, কমিটির পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও জামায়াত, এনসিপিসহ ১১টি দল তাতে অংশ নেয়নি। এছাড়া সংস্কারের দাবি তোলা বামপন্থী দলগুলোকেও আমন্ত্রণের বাইরে রাখা হয়েছে। এদিকে খেলাফত মজলিস ও রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের মতো দলগুলোও জানিয়েছে, তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে অটল রয়েছে। সব মিলিয়ে, সংবিধান সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকারের গৃহীত এই পথ নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য জামায়াত সময় চেয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun