প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান এবং গঙ্গামতি সেতু হয়ে ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকার ৬৭৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তখন ক্ষতিগ্রস্তদের ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, প্রতিটি স্থাপনার আকার ও গাছপালার ওপর ভিত্তি করে একেকজন মালিক কমপক্ষে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন। তবে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন এই সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, স্থাপনার সাইজ, গাছপালাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই ফের দখলদাররা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বন বিভাগের লাগানো গাছ কেটে গঙ্গামতির ধোলাই মার্কেট এলাকায় নতুন করে অন্তত ১২টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে গভীর রাতে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে এসব কাঠামো গড়ে তোলা হয়। অনেকে দোকান তৈরির পর তা বিক্রিও করছেন। এক ব্যবসায়ী জানান, রাকিব নামের এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তিনি দোকানটি পেয়েছেন, যিনি ওই এলাকায় আগে থেকেই প্রভাব বিস্তার করে আছেন। যদিও রাকিব দোকান বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তবে ওই এলাকায় তার বাবার দোকান থাকার কথা স্বীকার করে জানান, মার্কেটের সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে এসব দোকান তৈরি করা হয়েছে। অন্য এক ব্যবসায়ীর দাবি, পৈতৃক সম্পত্তি পানি উন্নয়ন বোর্ড রাস্তা নির্মাণের জন্য নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে নতুন করে দোকান তুলেছেন। সম্প্রতি সরজমিনে ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থানে বন বিভাগের লাগানো গাছ কেটে জায়গা পরিষ্কার করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘দিনের বেলায় বন বিভাগের লোকজন থাকে। বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় দোকান কিনেছেন এমন এক ব্যবসায়ী বলেন, রাকিব নামে একজন তাকে এই দোকান তৈরি করে দিয়েছেন। তার দুটি দোকানের একটি তিনি নিজেই চালান, অন্যটি মাসে দেড় হাজার টাকায় ভাড়া দিয়েছেন।
উল্লিখিত ইস্যুগুলোর পাশাপাশি এলাকায় অন্যান্য সমসাময়িক সংবাদ ও পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে: ডেঙ্গুতে একদিনে ৮ জনের মৃত্যু এবং হাসপাতালে ১৪৩২ জন ভর্তি, খুলনা মেডিকেলে ধারণক্ষমতার চারগুণ রোগীর চাপ, এটিইউয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘এসআরইউ’ করা, কুয়াকাটা উপকূলে মৃত তিমির আনাগোনা, পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ ও সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের আকর্ষণের পাশাপাশি সৈকতে উচ্ছেদের মাত্র চার মাসের মাথায় আবারও দখলবাজির পুনরাবৃত্তি।