হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাড়ে চার কেজি ওজনের সোনার বারসহ গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ার নাগরিক ইয়াং ডন সেউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাহবুব হোসাইন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত ছয় দিনের রিমান্ডের সিদ্ধান্ত জানান। আদালতে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বিচারক তার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা সম্ভব কি না জানতে চাইলে তিনি ইতিবাচক উত্তর দেন। নিজের পেশা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তার কোনো নির্দিষ্ট পেশা নেই এবং তিনি বর্তমানে চাকরির সন্ধানে আছেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। রিমান্ড আদেশের পর তিনি এর বিরোধিতা করে নাসূচক অঙ্গভঙ্গি করেন। রিমান্ডের বিষয়টি জানানো হলে তিনি আপত্তি জানিয়ে ‘না, না’ বলেন।
রোববার ভোর ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাকে আটক করা হয়। অবতরণের সময় থেকেই গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন এই যাত্রী। গ্রিন চ্যানেল-১ এলাকা অতিক্রম করার সময় তাকে তল্লাশি করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ইয়াং ডন সেউ অভিনব কৌশলে কালো রঙের কাপড়ের বেল্টে সোনাগুলো মুড়িয়ে নিজের শার্টের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এই তল্লাশিতে এক কেজি ওজনের চারটি এবং ১০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি বারসহ মোট নয়টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার মোট ওজন ৪ দশমিক ৫ কেজি এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভাষ্যমতে, এগুলো ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আট কোটি টাকা। উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই সন্দেহভাজন ওই যাত্রীর ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল।
এই ঘটনায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও প্রিভেন্টিভ শাখার কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সোনাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং এর পেছনে কোনো পাচারকারী চক্র জড়িত আছে কি না, তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করা হবে। এই পাচার ঘটনার সাথে আন্তর্জাতিক কোনো নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।