মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। গত সোমবার রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলগত কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। এর আগে গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে জোটের কৌশলগত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কৌশলগত কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারকে কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এর ফলে গত আগস্টে গঠিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোটি কার্যত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বাস্তব সামরিক ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমে জোটের প্রতিরোধক্ষমতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই জোট। বিশেষ করে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার যেকোনো অপপ্রয়াসকে তারা কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের কাঠামোর আওতায় সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এই জরুরি বৈঠকটিকে সৌদি আরব ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় তিন দেশের দৃঢ় সংহতি ও অভিন্ন অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর লক্ষ্য সামরিক প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো হুমকি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করা। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যরাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিন দেশ বলেছে, প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অন্য দুই দেশের নিরাপত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
জোটের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই কাঠামোর অংশ হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে জোটের স্থায়ী সচিবালয় সৌদি আরবে স্থাপন করার বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছিল দেশগুলো। মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই পাকিস্তান ও তুরস্ক তাদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সৌদির পাশে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।