ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রেকর্ড গড়া ইনিংস খেলার সুবাদে আইসিসির সেপ্টেম্বর মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের তরুণ অধিনায়ক শুভমান গিল। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো মাসসেরা হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে গিল পেছনে ফেলেছেন সতীর্থ অভিষেক শর্মা ও জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে। যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসকে হেনস্তা ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’: জাহেদ উর রহমান। দীর্ঘ লড়াইয়ে মোদি-শাহ, আরএসএস-বিজেপি, বিরোধী-জেন জি। জন্মদিনে টেস্টে লিটনের বিশ্ব রেকর্ড। মঙ্গলবার আইসিসির ঘোষিত ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ ’ -এর তালিকায় সতীর্থ অভিষেক শর্মা ও জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেন গিল। গত সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম দুটি ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন গিল।
গিলের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তার অসাধারণ ব্যাটিং। ওই দুই ম্যাচে তিনি মোট ৩৩৩ রান সংগ্রহ করেন। তার নেতৃত্বে ভারত সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয়। ২৭ সেপ্টেম্বর তিরুভানান্তপুরমে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০৮ বলে ১১০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন গিল। ভারত ম্যাচটি ৮ উইকেটে জিতে নেয় ৪১.৪ ওভারেই।
পরের ম্যাচেই গিলের ব্যাটে আসে বিধ্বংসী এক অপরাজিত দ্বিশতক। এই ইনিংসে তিনি একাধিক রেকর্ডের মালিক হন; ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম (৬২ বলে) ওয়ানডে শতক এবং ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম (১১৭ বলে) দ্বিশতকের রেকর্ড গড়েন। এই ম্যাচটিতে রোহিত শর্মার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে তিনি যোগ করেন ২৫৫ রান, যা ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। যদিও সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩ অক্টোবর ভারত হেরে যায়। বেড়েছে চালের দাম, কারণ জ্বালানি ও ধানের মূল্যবৃদ্ধি, মৌসুমের শেষ।
এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুলাই মাসে আইসিসির মাসসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন গিল। এর মাধ্যমে পুরুষ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশিবার এই স্বীকৃতি পাওয়ার রেকর্ডটি তিনি আরও সমৃদ্ধ করলেন। গিলের এই অর্জনের মাধ্যমে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের মোট পুরস্কার সংখ্যা ১৭টিতে দাঁড়িয়েছে, যা ১১ জন ভিন্ন ক্রিকেটার জিতেছেন। ভারতের হয়ে সবশেষ এই সম্মাননা পেয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন।
পঞ্চমবারের মতো এই স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত গিল জানান, পুরস্কারটি তার কাছে অত্যন্ত বিশেষ। তিনি নির্বাচক প্যানেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, দেশের মাঠে দর্শকদের সামনে রান তাড়া করে দলকে জেতানোর অনুভূতি বরাবরই অন্যরকম।
আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের বিবর্তন নিয়ে গিল আরও বলেন, ওয়ানডে ফরম্যাটের গতি এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং উইকেটের চরিত্র বুঝে মানিয়ে নেওয়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। আসন্ন বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি পুরুষ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে ভারত দল নিজেদের মান আরও উন্নত করতে এবং অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রদর্শনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন। কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই যেভাবে আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন ভাইকিংরা।