কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরির বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কারও নামে মিথ্যা তথ্য ও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যটি কোনোভাবেই বিনোদনের পর্যায়ে পড়ে না। বরং এটি একটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। মেহজাবীন মনে করেন, প্রযুক্তিকে সৃজনশীল কাজের পরিবর্তে অন্যের সম্মানহানির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
কারও প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য তিনি যে যুক্তিটি সামনে এনেছেন তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষের প্রতি সম্মানবোধ কেবল নিজের পরিবারের নারী সদস্য বা আত্মীয়দের কথা চিন্তা করে হওয়া উচিত নয়। মেহজাবীনের ভাষ্যমতে, কোনো নির্দিষ্ট মানুষের সঙ্গে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কী হতো, সেই পরিচিত গণ্ডি বা যুক্তির বাইরে এসে মানুষের প্রতি মানুষের সাধারণ সম্মানবোধ জাগ্রত করা এখন জরুরি। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন মানবিকতা ও নৈতিকতাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়।
বর্তমান সময়ে এই সমস্যার বিস্তৃতি নিয়ে একটি গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, এ ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট এখন আর কেবল নির্দিষ্ট লিঙ্গের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিউ, এনগেজমেন্ট এবং ট্রেন্ডিংয়ের যে ইঁদুর দৌড় বা অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে, তাতে যে কেউই এ ধরনের কনটেন্ট ছড়ানোর মাধ্যমে অপরাধে অংশীদার হয়ে যেতে পারেন। আবার যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে এমন ভয়াবহ সাইবার হয়রানি বা বিকৃত কনটেন্টের শিকার হতে পারেন। তাই এই ডিজিটাল অরাজকতা রোধে ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন।
নিজের পোস্টের শেষাংশে মেহজাবীন পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি ভাবনার খোরাক দিয়েছেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন রেখেছেন যে, একজন অপরাধীর দ্বারা সৃষ্ট অপরাধের অংশীদার হয়ে কেউ নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় দিতে চান কি না, তা প্রতিটি মানুষেরই ভেবে দেখা উচিত। তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে নিজেদের নৈতিক অবস্থান পরিষ্কার রাখা এখন সময়ের দাবি। অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সম্মানহানিকর কনটেন্ট তৈরিতে বিরত থাকাই একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব হওয়া উচিত।