তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রম অসন্তোষ নিরসন ও স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আগামী সাত দিনের মধ্যে মজুরি বোর্ডের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের নিয়মিত ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য কারখানার মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলনকক্ষে ‘সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি ও নিরাপদ অভিবাসন’ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। শ্রমিক নন, এমন ব্যক্তিরা শ্রমিক সংগঠনের নেতা পরিচয়ে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের তালিকা পাওয়া গেছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে একটি সমন্বিত মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও জানান মন্ত্রী। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এবং মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই সেল গঠন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, শিল্পাঞ্চলে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা মনিটরিং সেলে জানাতে হবে। জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। অযথা সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানসচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা।