যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর সীমান্ত দিয়ে কানাডা থেকে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করার একটি বড় চক্র পরিচালনার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী এক ভারতীয় যুবক দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শিভম নামের ওই যুবক ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত এই পাচার কার্যক্রমের সমন্বয় করার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন।
তার মূল কাজ ছিল কানাডা সীমান্ত থেকে ভারতীয় নাগরিকসহ অন্যান্য বিদেশিদের গ্রহণ করার জন্য চালকদের ব্যবস্থা করা এবং তাদের উত্তর নিউ ইয়র্কের গোপন আস্তানা ও প্ল্যাটসবার্গের বিভিন্ন হোটেলে পৌঁছে দেওয়া। এই পাচার চক্রের প্রতিটি সদস্যকে মাথাপিছু নির্দিষ্ট অংকের অর্থ পরিশোধ করা হতো।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিভম এই অবৈধ অভিযানের চালকদের প্রতি জনপিছু ১০০ ডলার (প্রায় ১২ হাজার টাকা) করে পারিশ্রমিক দিতেন। গত বছরের ২৫ জানুয়ারি তিনি ১২ জন ভারতীয় ও ব্রিটিশ নাগরিককে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের একটি অভিযানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই সময় মার্কিন সীমান্ত টহল দল সন্দেহভাজন দুটি যানবাহনকে থামানোর চেষ্টা করলে তারা দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে একটি গাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে এবং অন্যটি নিউ ইয়র্কের মুরস এলাকায় আটক করা হয়। ওই গাড়ি দুটি থেকে পাচার হওয়া ১২ জন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
আদালতের নথিতে দেখা গেছে, শিভম মানব পাচারের ষড়যন্ত্র এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তার একাধিক অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। তার এই স্বীকারোক্তির পর আদালত আগামী সেপ্টেম্বরে দণ্ডাদেশ প্রদানের দিন ধার্য করেছেন।
এই অপরাধের জন্য তার কমপক্ষে ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানা গেছে। ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক দেশটির প্রচলিত সাজা প্রদানের নীতিমালা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।
বর্তমানে ওই অভিযুক্ত যুবক মার্কিন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই ধরনের পাচার চক্র দমনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
পাচারের শিকার ব্যক্তিরা অনেক সময় বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেন, যা তাদের জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। শিভমের এই স্বীকারোক্তি এই শক্তিশালী পাচার চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।