জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উত্তর ধলডাঙ্গা ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামে কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিয়েছে। গত তিন দিনে দুই গ্রামের অন্তত ১০০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান, উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় প্রায় ১ হাজার ৬০ মিটার এলাকাজুড়ে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে উত্তর ধলডাঙ্গায় ৭০টি এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গায় ৩০টি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে।
শিলখুরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন জানান, গত এক বছরে কালজানি নদী বাম তীরের দিকে গড়ে প্রায় ১০০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে। এর ফলে প্রায় এক হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ধলডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় ও স্থানীয় বউবাজারও ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় তারা চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছে।
ভাঙনকবলিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনসার আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন প্রতিনিয়ত তার কাছে এসে সহযোগিতা ও ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে গতকাল শনিবার (৬ জুন) বিকেলে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাকির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, রোববার থেকে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ২ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হবে এবং প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।