1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
‎কাশিমপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করলো গাজীপুর জেলা প্রশাসক ‎অপহরন ও চাঁদাবাজি করে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় নাহিদ পারভেজকে গ্রেফতার হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন:রাশেদুল ইসলাম সহ- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি আরিফ হাসান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা আমতলীতে অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ‎কাশিমপুরে দুই লাখ দশ হাজার টাকা জরিমানা করলো এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিক জামালের ওপর সন্ত্রাসী হামলা গাজীপুর কাশিমপুরে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা রাজধানীসহ সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

জাতিসংঘের নেতৃত্বের দৌড়ে ৬ প্রার্থী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছয় প্রার্থী বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিতর্কে সংকটে থাকা সংস্থাটির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে যেতে না পারায় নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন গতি আসেনি। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশাল কক্ষে প্রায় দুই ঘণ্টার বিতর্কে কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রার্থীরা। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে ব্লুমবার্গ।

মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন চিলির মিশেল ব্যাচেলেট, ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি, কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান, গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেট এবং সেনেগালের ম্যাকি সাল। গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর।

বিতর্কে প্রত্যেক প্রার্থীই কেন তিনি মহাসচিব হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য, তা তুলে ধরেন। বৈশ্বিক সংঘাতের এ কঠিন সময়ে সংকট মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সম্মেলনের (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান বলেন, ‘পাঁচ বছর পর আমি চাই না কেউ আমাকে আবার জিজ্ঞেস করুক, ‘জাতিসংঘ কোথায়?’ সেটিই হবে আমার সাফল্যের মানদণ্ড। আমি এমন একটি জাতিসংঘ দেখতে চাই, যা আবার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে ফিরবে এবং মাঠপর্যায়ে ফল নিশ্চিত করবে।’

সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সালও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই তিনি আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করবেন এবং জাতিসংঘকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও মানুষের কথা বেশি শোনে- এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পথে এগিয়ে নেবেন। ‘জাতিসংঘ শুনবে, পদক্ষেপ নেবে এবং মানুষকে একত্র করবে।’

গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেজ-বিরকেটও বলেন, তিনি জাতিসংঘের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। 

তার ভাষায়, ‘আমি এমন মহাসচিব হতে চাই, যিনি ইরান, হাইতি, সুদান কিংবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র- যেখানেই সংকট হোক না কেন, উদ্যোগ নেবো।’

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের সময় জাতিসংঘের আরও সক্রিয় ভূমিকার পক্ষে মত দেন। 

তিনি বলেন, কোনো সদস্য রাষ্ট্র যদি যুদ্ধ শুরু করে বা আগ্রাসন চালায়, তাহলে ‘এটি এতটাই গুরুতর বিষয় যে মহাসচিবের অবশ্যই এগিয়ে আসা উচিত।’

গ্রোসি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হবে বৈধ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা। এরপর হাতে থাকা সব উপায় কাজে লাগাতে হবে।’

বর্তমানে জাতিসংঘ গভীর আর্থিক ও আস্থার সংকটের মুখে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সংস্থাটির বিরুদ্ধে বেপরোয়া ব্যয়, অতিরিক্ত সম্প্রসারণ এবং প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায়, জাতিসংঘ শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্বে আরও বেশি গুরুত্ব দিক। তবে অন্য অনেক দেশ মনে করে, সংস্থাটির অপর দুই ভিত্তি- মানবাধিকার ও উন্নয়ন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বেশির ভাগ প্রার্থীই জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মহাসচিবের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেন।

আগামী ৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য জাতিসংঘের মহাসচিব পদের প্রার্থীদের প্রথম দফার গোপন ও নামবিহীন ভোট দেবেন।

এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কয়েক দফা একই ধরনের ভোট হবে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া এই পাঁচ স্থায়ী সদস্যদেশের ভেটো থাকা চলবে না।

নির্বাচিত প্রার্থীর নাম পরে আনুষ্ঠানিক নিয়োগের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে। নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এএফপির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন কূটনীতিক ফলাফল নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, অনেক দেশের রাজধানী এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান এএফপি’কে বলেন, ‘এখনও সবচেয়ে আলোচিত শীর্ষ প্রার্থী গ্রোসি। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যেতে পারেননি। গ্রিনস্প্যান ও রড্রিগেজ-বিরকেটেরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থক রয়েছে।’

জাতিসংঘের বিভিন্ন মহল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও কয়েকটি নামও আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। নিউইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে চান।

সব সময় অনুসরণ না হলেও ভৌগোলিক রোটেশনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা এ পদটির দাবি জানিয়েছে। ম্যাকি সাল ছাড়া বাকি সব প্রার্থীই এ অঞ্চল থেকে এসেছেন।

এছাড়া অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun