ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে একটি বেসরকারি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রশিক্ষক ও শিক্ষানবিশ পাইলট নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে কানপুরের গঙ্গা ব্যারাজের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গুজরাটের বাসিন্দা প্রশিক্ষক পাইলট শচীন ভাটিয়া এবং কর্ণাটকের শিক্ষানবিশ পাইলট অভিষেক পূজারি। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে বিমানটি ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে প্রায় ২০ মিনিট পর সেটি ফিরে আসার কথা ছিল। ফেরার পথে কানপুরের কাটরি এলাকার নাথুপুরওয়া গ্রামের কাছে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। বিকট শব্দে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টেকনাম মডেলের উড়োজাহাজ। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফ্লাইট ট্রেনিং স্কুল ২০২৩ সালে বিমানটি তাদের বহরে যুক্ত করেছিল। বিমানটির কারিগরি অবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উড্ডয়নের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
নিহত প্রশিক্ষক পাইলট শচীন ভাটিয়ার দীর্ঘ উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার প্রায় তিন হাজার ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল। অভিজ্ঞ পাইলট থাকা সত্ত্বেও কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়টি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর বা ডিজিসিএকে জানানো হয়েছে। সংস্থাটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কারিগরি তদন্ত শুরু করবে। তদন্তে বিমানের ইঞ্জিন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, আবহাওয়া এবং পাইলটদের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হবে।
উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত জুনে কাসগঞ্জ জেলায় দুই আসনের একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনায় পাইলট প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানটি একটি উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনে ধাক্কা খেয়েছিল। এছাড়া মে মাসে মহারাষ্ট্রের বারামতিতে রেডবার্ড ফ্লাইট ট্রেনিং একাডেমির একটি বিমান অবতরণের সময় খুঁটিতে ধাক্কা দেয়, যেখানে শিক্ষানবিশ পাইলট কাইনাত খান সামান্য আহত হন। কানপুরের এই সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি প্রশিক্ষণ বিমান পরিচালনার নিরাপত্তা ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেখানে পৌঁছায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওই ঘটনায় বিমানে থাকা একমাত্র শিক্ষানবিশ পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা আরও স্পষ্ট হবে।