ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান অমানবিক পরিস্থিতি যেন নাৎসিদের ইহুদি নিধনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। গাজা ও পশ্চিম তীরকে কার্যত একটি বিশাল বন্দিশিবিরে পরিণত করা হয়েছে, যেখানে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে টিকে থাকার লড়াই করছেন। ইউরোপের ইতিহাসের সেই ভয়াবহ দিনগুলোতে বিশ্ব যে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছিল, আজ সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূল্য দিতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। অথচ গোটা বিশ্বের চোখের সামনে এই ধ্বংসযজ্ঞ চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।
ইসরায়েলের অবিরাম বোমা হামলায় গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যারা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও, হামাস নির্মূলের অজুহাতে তিনি ও তার সহযোগীরা বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববাসীর মনোযোগ এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনার দিকে সরে যাওয়ায় ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। এই সুযোগে ইসরায়েল গাজায় হত্যাকাণ্ড ও ভূখণ্ড দখলের প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। গত ২ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১২ হাজার ৪০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ১৭৯ বার হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ইসরায়েলিদের সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত এসব হামলায় ৭৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বর্তমান উগ্র ডানপন্থী সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১৯৭২ সালে যেখানে বসতির সংখ্যা ছিল ১৪টি, সেখানে বর্তমানে বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।
১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি এবং পরবর্তীতে ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালের চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসনের যে পথ তৈরি হয়েছিল, তা আজ প্রায় রুদ্ধ। বর্তমান ইসরায়েলি সরকার দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ঘোর বিরোধী। তবে সম্প্রতি কানাডা, ফ্রান্স, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করছে।
এই প্রথম ইসরায়েলকে এমন ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা অবস্থানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যদিও ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো এই অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমিরাতসহ আটটি মুসলিম দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ডাক দিয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাহফুজ আনামের কলাম / ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার কথা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরায়েল এখন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাই করছে, যেটা নাৎসিরা ইহুদিদের সঙ্গে করেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাসপাতালগুলোতে বোমা হামলা হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি সুপেয় পানি থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস তাদের বাধ্য হয়ে সমুদ্রের পানি পান করতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরায়েলিরা গাজার বাসিন্দাদের অনাহারে রেখে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে, ইসরায়েল কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।