বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ১০ মডেলের উড়োজাহাজের সনদ বা অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। নতুন একটি সফটওয়্যার ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। সংস্থাটির পরিচালক ব্রায়ান বেডফোর্ড জানিয়েছেন, আগে থেকে প্রত্যয়িত অন্যান্য ম্যাক্স মডেলগুলো পুরোপুরি নিরাপদ রয়েছে এবং সেগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। তবে নতুন ত্রুটির বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই ও সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ৭৩৭ ম্যাক্স ১০-এর প্রত্যয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে না।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রায়ান বেডফোর্ড এই নতুন সমস্যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বিমানটির অটোপাইলট ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তবে ত্রুটি দেখা দিলেও পাইলটরা উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এফএএ পরিচালক আরও জানান, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বোয়িংয়ের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাজনিত যে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমানের এই সমস্যাটি তার চেয়ে ভিন্ন প্রকৃতির। সংস্থাটি বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করছে যে, এই ত্রুটিপূর্ণ পরিস্থিতির সময় পাইলটদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ বা মানসিক ধকল তৈরি হয়েছিল কি না। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পাইলটদের বর্তমান প্রশিক্ষণ পদ্ধতি কতটা কার্যকর, সেটিও পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, বিষয়টি ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ৭৩৭ ম্যাক্সের স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর তুলনায় ভিন্ন। ওই সময় দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে এই মডেলের উড়োজাহাজের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ত্রুটিপূর্ণ এই সফটওয়্যারটি সরবরাহ করেছে জিই এরোস্পেস, যারা বোয়িংয়ের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ তৈরির সাথে যুক্ত। পরিচালক বেডফোর্ডের প্রত্যাশা অনুযায়ী, জিই এরোস্পেস তুলনামূলক দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে। তবে সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বোয়িংয়ের নথির বরাতে উঠে এসেছিল যে, ককপিট নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যারের নতুন সংস্করণে হালনাগাদের পর ফ্লাইট বাতিলের ক্ষেত্রে পাইলট যখন উড্ডয়নপথ পরিবর্তন করেন, তখনই মূলত এই জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এফএএ বর্তমানে বোয়িং এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি ও এর প্রতিকার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এফএএ জানিয়েছে, যদি তদন্তের কোনো পর্যায়ে বাড়তি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।