মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ব্যবহৃত ভোটকেন্দ্রটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরকারি সিডস্টোর ভবনের সামনে স্থানীয় শত শত নারী ও পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রটি আগের স্থানে বহাল রাখার দাবি জানান। ২০০৩ সাল থেকে সরকারি সিডস্টোর ভবনটি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি সাতটি গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থানে অবস্থিত হওয়ায় বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের যাতায়াতে সুবিধা দেয়। এতে বিশেষ করে নারী, বয়স্ক, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি সরিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এলাকাবাসীর মতে, প্রস্তাবিত বিদ্যালয়টি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রান্তে অবস্থিত এবং ওই এলাকায় স্থানীয় কোনো ভোটারের বসতবাড়ি নেই। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কেন্দ্রটি স্থানান্তর করা হলে সাত গ্রামের ভোটারদের অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে, যা নারী ও বয়স্কদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই প্রতিবাদ সমাবেশে আবুল বাশার, হেদায়েত খান, ফজেল হাওলাদার, সুমন ফরাজী, সাবিনা ও সুরভি সাহেদাসহ সাত গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি কেন্দ্রটি সরিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানতে পারেন স্থানীয়রা।
ভোটকেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবিতে গত ৩০ জুলাই মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সচেতন বাসিন্দারা। সেই আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি সিডস্টোর ভবনটি যাতায়াতের সুবিধার্থে ভৌগোলিকভাবে সবচেয়ে উপযুক্ত। বিপরীতে ফরাজীকান্দি বিদ্যালয়ের দূরত্বের বিষয়টি ভোটারদের জন্য অসুবিধাজনক হবে।
মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্র নিয়ে দুই পক্ষ থেকেই আবেদন করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি গণশুনানি সম্পন্ন হয়েছে। তবে শুনানির সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে পুনরায় তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। স্থানীয় ভোটাররা তাদের দীর্ঘদিনের এই কেন্দ্রটি অপরিবর্তিত রাখার দাবি নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।