রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত নিউগিনি প্রপার্টিজে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভয়াবহ তাণ্ডব ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সশস্ত্র প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি আবাসন এলাকায় ঢুকে ভাঙচুর চালায়, যার মধ্যে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ স্টুডিওটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ অন্তত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে মামলার চার নম্বর আসামি ও সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। নিউগিনিতে হামলায় সাবেক সেনা-কর্মকর্তা গ্রেপ্তার। রোড নম্বর ৯, মিরপুর ডিওএইচএস কালচারাল সেন্টার, মিরপুর।
তদন্তে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নথি অনুযায়ী, ৫ হাজার বর্গফুটের যে শেডটিতে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও অবস্থিত, তার ভাড়ার চুক্তিপত্রে তার নিজের কোনো নাম নেই। চুক্তিটি করা হয়েছে সালমান মুক্তাদিরের বন্ধু এসএম রিফাত মেননের নামে। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে সম্পন্ন এই চুক্তিতে প্রথম পক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার। চুক্তি অনুযায়ী, ৪ বছরের মেয়াদে এই জায়গাটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। অথচ চুক্তিপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, ইজারাগ্রহীতা অর্থাৎ এসএম রিফাত মেনন কাউকে সাব-লেট বা উপ-ভাড়া দিতে পারবেন না। এই শর্ত লঙ্ঘন করেই সেখানে সালমান মুক্তাদির তার স্টুডিও গড়ে তোলেন। যদিও হামলার পর সালমান মুক্তাদির দাবি করেছিলেন, হামলাকারীরা জানলে এটি তার স্টুডিও, তবে এমনটা হয়তো ঘটত না। সম্পত্তিটির মোট আয়তন ৬ হাজার ৮০০ বর্গফুট। এর মধ্যে ইজারাযোগ্য অংশের (পূর্ব ও উত্তর দিক) আয়তন ৫ হাজার বর্গফুট।
পল্টন থানায় দায়ের করা একটি জুলাই হত্যা মামলার (সিআর মামলা নং ৭০৪/২০২৫) নথিতে দেখা যায়, নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া ২৪৭ নম্বর আসামি। অভিযোগ রয়েছে, এই আওয়ামী লীগ নেতাকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এসএম রিফাত মেনন ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন এবং পুরো বিষয়টি সালমান মুক্তাদিরের জানা ছিল। এমনকি সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়ে বুধবার বিএফআইইউ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার হিসাব বিবরণী, কেওয়াইসি ও হিসাব খোলার ফরমসহ বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। লুট করা হয় ভবনে থাকা বিভিন্ন অফিস ও আবাসনের মালামাল। ইজারা গ্রহীতা শুধুমাত্র অফিস এবং স্টুডিওর কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ওই সম্পত্তিটি ইজারা নিতে ইচ্ছুক।
হামলার মোটিভ নিয়েও পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির এটিকে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত হামলা হিসেবে দাবি করলেও, নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার দায়ের করা মামলায় জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা ওই মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে কাজ করছেন এবং এই প্রপার্টিজ কেন্দ্রিক আইনি জটিলতা ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসা ৫১২/১০, মানিকদি রোড, ক্যান্টনমেন্ট থানা। চুক্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়— ‘ঢাকা-১২০৬ এর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মানিকদি রোডের ৫১২/১০ নম্বর হোল্ডিংয়ে অবস্থিত রাজউক অনুমোদিত ৬তলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবনটি সম্পূর্ণভাবে ইজারা প্রদানকারীর মালিকানাধীন এবং তিনি এর আইনগত স্বত্ব ও দখলের অধিকারী।