সব ধরনের জটিলতা কাটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি ইউরেনিয়াম শুক্রবার দুপুর নাগাদ ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটম জ্বালানি আমদানির এই নতুন সময়সূচি নিশ্চিত করেছে। মূলত পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় জ্বালানি আসার প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আসার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জ্বালানিটি এসে পৌঁছাবে। ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই জ্বালানি পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে শুক্রবার ২ অক্টোবর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাধারণত শুরুর এক থেকে দেড় বছরের মাথায় কিছু জ্বালানি অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এই বাড়তি জ্বালানি সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আনা হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি পরিবহনের রুট অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্বাচন করা হয়েছে। কোনো কারণে নির্ধারিত রুটে সমস্যা হলে বিকল্প হিসেবে চীনের আকাশসীমা ব্যবহারের পরিকল্পনাও কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। এদিকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে কারিগরি দিকেও বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে কয়েক দফা পরীক্ষার পর প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপ সফলভাবে সহ্য করেছে সিস্টেমটি। ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে এই পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাইমারি সার্কিটে কোনো কারণে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সংবেদনশীল ভালভগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। সিস্টেমের জটিলতা নিরসনে ইতিমধ্যে নয়টি নিরাপত্তা ভালভ মেরামত করা হয়েছে। এখন পুরো ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরীক্ষার পালা, যেখানে ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের প্রক্রিয়াও গতি পেয়েছে। রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাবে। প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানি দেশে আসা এবং নিরাপত্তা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিকে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।