ঢাকার দোহারের রাধানগর গ্রামে দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও ঋণের ভার সইতে না পেরে মাত্র ৩১ দিনের ব্যবধানে মা–বাবা দুজনই প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর অনাথ হওয়া পাঁচ বোনের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামের একটি সংগঠন। শুক্রবার দুটি পৃথক প্রতিনিধিদল শোকার্ত পরিবারটির খোঁজখবর নিতে তাঁদের বাড়িতে যান এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
নিহত কৃষক আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম পাঁচ কন্যাসন্তান রেখে গেছেন, যাদের মধ্যে একজন পাঁচ বছরের শিশু। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আজাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, এর ঠিক এক মাস আগে তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির খবরটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশনা দেন যেন দ্রুত ওই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়। প্রতিনিধিদলটি জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন সংস্করণে ‘এক মাসের ব্যবধানে মা–বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এমপি সাহেব যেন আমাদের একটি ঘর করে দেন।
সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আজ দুপুরে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাধানগর গ্রামে গিয়ে আর্থিক অনুদান ও উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেয়। এ সময় মোকছেদুল মোমিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিবারের করুণ পরিণতির খবর শুনেই প্রধানমন্ত্রী সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আজ সহমর্মিতার বার্তা নিয়ে প্রতিনিধিদলটি উপস্থিত হয়েছে। এই দলে আরও ছিলেন মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ছাত্রদল নেতা হাসনাইন নাহিয়ান সজীব ও আবু হানিফসহ স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। তাঁর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে আমরা আজ এখানে এসেছি।’।
এর আগে শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধিদল ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। এ সময় যুবদল নেতা আলী আব্বাস পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ভাঙা টিনের ঘরটি মেরামত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরিবারের বড় মেয়ে সোনিয়া আক্তার তাদের অভিভাবকহীন কষ্টের কথা তুলে ধরেন এবং এমপির কাছে বসবাসের জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থানের আকুতি জানান। সরকারি বা দলীয় পর্যায়ের এই মানবিক সহায়তায় এলাকাটিতে কিছুটা স্বস্তি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।