বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবা জেমিনি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে জেমিনি ফ্ল্যাশ ও জেমিনি প্রো মডেল ব্যবহারের আর কোনো সুযোগ থাকছে না। এর পরিবর্তে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কেবল ‘জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট’ মডেলটি ব্যবহার করতে হবে। গুগলের সাপোর্ট পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেমিনি অ্যাপ ও ডেস্কটপ সংস্করণে একাধিক মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ৯ অক্টোবর থেকে বিনামূল্যের অ্যাকাউন্টে করা সব প্রশ্নের উত্তর দেবে তুলনামূলক কম খরচের জেমিনি ফ্ল্যাশ-লাইট মডেলটি।
এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু বিনামূল্যের ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং গুগলের এআই প্লাস গ্রাহকেরাও এর আওতায় পড়বেন। যুক্তরাষ্ট্রে মাসে ৫ ডলারের এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা জেমিনি ৩.১ প্রো মডেলের সুবিধা হারাবেন। গুগলের দাবি অনুযায়ী, জেমিনি ৩.১ প্রো জটিল গণিত ও কোডিংয়ের কাজে অত্যন্ত সক্ষম। পাশাপাশি টেক্সট, ফাইল, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণেও এর দক্ষতা অনেক বেশি। ফলে কোডিং, পড়াশোনা কিংবা বড় নথি বিশ্লেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে জেমিনি ব্যবহারকারীদের এখন থেকে আরও ব্যয়বহুল সাবস্ক্রিপশন নিতে হতে পারে।
উন্নত সেবা ব্যবহারের জন্য এখন গ্রাহকদের পকেট থেকে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে। গুগল এআই প্রোর মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ ডলার। আর যারা বেশি ব্যবহারের সীমা চান, তাদের এআই আল্ট্রা প্ল্যানের জন্য প্রতি মাসে অন্তত ১০০ ডলার খরচ করতে হবে। জেমিনি ফ্ল্যাশ সাধারণত দ্রুত ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, লেখালেখি, সম্পাদনা, অনুবাদ, ছবি বিশ্লেষণ ও সাধারণ কোড লেখা। অন্যদিকে জেমিনি প্রো জটিল গণিত, যুক্তিভিত্তিক সমস্যা সমাধান, বড় নথি বিশ্লেষণ এবং জটিল কোডিংয়ের মতো কাজে অনেক বেশি পারদর্শী।
মডেল ব্যবহারে গুগল নতুন ‘এফোর্ট লেভেল’ সুবিধাও যুক্ত করতে যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী লো, মিডিয়াম ও হাই—এই তিনটি স্তর থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। স্তর যত বেশি হবে, মডেলটি তত বিশদ ও গভীরভাবে কাজ সম্পাদন করবে। তবে ব্যবহারকারী যদি বেশি এফোর্ট লেভেল ব্যবহার করেন, তবে তার নির্ধারিত ব্যবহারের সীমাও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।