পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় সীমা বৌদ্ধ বিহারের সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংলাচিনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিহারটিতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার দুপুরে বিহার প্রাঙ্গণে রাখাইন সম্প্রদায়ের আয়োজিত প্রতিবাদ সভা থেকে এই ঘোষণা আসে। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
বিহার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিহারের সামনের দোকানগুলোর ময়লা-আবর্জনার কারণে পরিবেশ দূষিত হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে সীমানার ভেতরে একটি দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদার জমির মালিকানা দাবি করে বাধা দেন। উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে নাসির ও সামসুলের লোকজন বিহার সভাপতি মংলাচিনের ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করেন। মংলাচিনের অভিযোগ, বিএস জরিপে ভুলের সুযোগ নিয়ে শতবর্ষী এই বিহারের জমি দখলের দীর্ঘদিনের চক্রান্ত চলছে। মংলাচিন আরও দাবি করেন, বিহারের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরের কিছু জমি ভুলবশত বিএস জরিপে অন্যদের নামে রেকর্ড হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বিভিন্ন এলাকার রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ বিহার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেন। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানান আয়োজকরা। পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বুদ্ধিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমং তালুকদার জানান, প্রার্থনাগারের জমি দখলের ধারাবাহিকতায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন। সভায় হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এদিকে অভিযুক্ত সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদারের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার জানান, বিহার সভাপতিকে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।