নিউইয়র্কের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম ইসলামিক প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) তাদের চলমান আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে নতুন করে ২০ লাখ বা ২ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি, ধর্মীয় শিক্ষার ব্যাপক প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসা প্রতিষ্ঠানটিকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হলেও অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন। ভবনের বিভিন্ন অংশকে সমন্বিত করা, অতিরিক্ত তলা সংযোজন, লিফটের মাধ্যমে যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের জন্য ভবনকে আরও ব্যবহারোপযোগী করার উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তার জন্য স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভবনটিকে আরো নিরাপদ, আরামদায়ক ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রসারণের ফলে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, শিশু-কিশোর ও তরুণদের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি অনুষ্ঠানের জন্য আরো উন্নত পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকেরা আশা করছেন, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ধর্মপ্রাণ মুসলমান, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা এ আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ প্রকল্পে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজস্ব সম্পত্তি ক্রয়, মসজিদ নির্মাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বৃদ্ধি পায়।
চলতি বছরের ১২ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেএমসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জেএমসির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেএমসির সভাপতি ডা. নাজমুল এইচসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। খান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তুহিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফান্ডরেইজিং কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং জেএমসির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান লাবু বক্তব্য দেন। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রকল্পের বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে জেএমসির নীতিনির্ধারক কমিটি। এই অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আগামী ২৪ অক্টোবর শনিবার বিকেলে নিউইয়র্কের ইস্ট এলমহার্স্টের লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়ট হোটেলে এক বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট ইন্টারফেইথ স্কলার শেখ উসমান বিন ফারুক। অতিথি বক্তা হিসেবে থাকবেন ইসলামিক স্কলার শেখ ড. জাকির আহমেদ, জেএমসির ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ এবং ইমাম শামসি আলী।
ফান্ডরেইজিং ডিনারে অংশগ্রহণের জন্য জনপ্রতি ২৫০ ডলার এবং চার সদস্যের প্রতিটি পরিবারের জন্য ১ হাজার ডলার অনুদানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমিউনিটির সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে পরিবার-পরিজনসহ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দান করার আহ্বান জানিয়েছেন জেএমসির কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য যে, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে জেএমসির নতুন মসজিদ ভবন এবং ২০০৩ সালে সম্প্রসারিত ভবনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এর আগেই ২০০১ সালে হাফেজি মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়, যা বর্তমানে জামিয়া কোরআনিয়া একাডেমি নামে পরিচিতি পেয়েছে। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় ধর্মীয় ও সামাজিক সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি এখন তার কার্যক্রম আরও বেগবান করতে নতুন এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমিউনিটির পাশে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। একই বছর আল-মামুর স্কুল এবং ইকরা লাইব্রেরিও যাত্রা শুরু করে।