ভিয়েতনামের কোয়াং ত্রি বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো সফলভাবে কারিগরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের আকাশসীমার নিরাপত্তা, রানওয়ের উভয় প্রান্তের বাধা ও উড্ডয়ন-অবতরণের উপযোগিতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ১৫ অক্টোবর কোয়াং ত্রি প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, টিঅ্যান্ডটি গ্রুপ ও কোয়াং ত্রি এয়ারপোর্ট কোম্পানির সমন্বয়ে এই বিশেষ ফ্লাইটের আয়োজন করা হয়। ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জরিপ ও মানচিত্রায়ন সংস্থা সেসনা ২০৮ মডেলের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে এই পরীক্ষা চালায়। ডং হোই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর প্রায় ৬০ থেকে ৯০ মিনিট ধরে কোয়াং ত্রি বিমানবন্দরের ওপর তিনটি মূল্যায়ন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ৩০০ ও ৬০ ও ৬০০ মিটার উচ্চতায় ঘণ্টায় গড়ে ২২০ কিলোমিটার গতিতে উড়ে উড়োজাহাজটি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও পার্কিং এরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও উড়োজাহাজ পার্কিং এলাকার অবকাঠামোও পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত বিমানবন্দরটির নির্মাণকাজের ৮০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের কাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ, যাত্রী টার্মিনাল ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্মাণকাজ ৯০ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার সরঞ্জাম স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে। জুলাই মাসে গৃহীত সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটিকে ৪সি থেকে ৪ই পর্যায়ে উন্নীত করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এখানে বোয়িং ৭৭৭, বোয়িং ৭৮৭ ও এয়ারবাস এ৩৫০-এর মতো বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠা-নামা করতে পারবে।
বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ভিয়েতনাম এয়ারপোর্টস করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে। পাশাপাশি ভিয়েট্রাভেল এয়ারলাইনস, ভিয়েতজেট এয়ার এবং সান ফু কুওক এয়ারওয়েজের সাথে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে বিমান পরিবহন সেবা উন্নয়নের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে হ্যানয় ও হো চি মিন সিটির সাথে আকাশপথে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সব কারিগরি পরীক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করে ২০২৭ সালের মার্চ মাসে বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।