চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ছন্দ ধরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। হোসে মরিনহোর কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত শতভাগ জয়ের রেকর্ড বজায় রেখে স্প্যানিশ জায়ান্টরা ৪-১ গোলে হারিয়েছে আরবি লিপজিগকে। এই ম্যাচে রিয়ালের জার্সিতে নিজের অভিষেক গোল পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভা। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের দুর্দান্ত ছন্দটা ধরে রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। লিপজিগের একের পর এক আক্রমণের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আরবি লিপজিগ বেশ আক্রমণাত্মক থাকলেও গোলের দেখা পায়নি। রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া দারুণ ক্ষিপ্রতায় ক্রিস্টোফার এনকুনকু এবং রোমুলোর দুটি নিশ্চিত গোল প্রতিহত করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে গোলমালার সূচনা হয়; আরদা গুলারের শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারে লেগে দিক পরিবর্তন করলে সুযোগ বুঝে বল জালে পাঠান বার্নার্ডো সিলভা। ম্যাচের প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় জুড়ে লিপজিগই বেশি আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক ফুটবল খেলে। তবে সুযোগ হাতছাড়া করার মাশুল গুনতে হয় তাদের। আরদা গুলারের একটি শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে লিপজিগ গোলরক্ষক মার্টেন ভান্দেভোর্তের পায়ের মাঝ দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকেই চতুরতার সঙ্গে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন বার্নার্ডো সিলভা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও লিপজিগ গোলরক্ষক ভান্দেভোর্তে দারুণ দক্ষতায় ফেদেরিকো ভালভেরদের একটি শক্ত শট প্রতিহত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রিয়ালের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরদা গুলার। কিলিয়ান এমবাপ্পের হেডার থেকে পাওয়া বলটি তিনি আলতো ছোঁয়ায় জালে জড়ান। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে জুড বেলিংহামের সহায়তায় চমৎকার এক বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে ১২ ম্যাচে নিজের ১২তম গোল পূর্ণ করেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি ঠেকাতে তিনি ব্যর্থ হন।
ম্যাচের শেষদিকে তি দিয়াম গোমিস লিপজিগের হয়ে এক গোল পরিশোধ করলেও রিয়ালকে আটকে রাখতে পারেননি। এর দুই মিনিট পরেই রিয়ালের বদলি খেলোয়াড় ইয়ান দিওমান্দে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন এক ভলিতে দলের জয় নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে চলতি গ্রীষ্মেই লিপজিগ ছেড়ে রিয়ালে যোগ দিয়েছিলেন দিওমান্দে। ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডে চলতি গ্রীষ্মেই এই জার্মান ক্লাবটি ছেড়ে রিয়ালে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই তরুণ ফুটবলার। তবে তাদের সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ।
সামনে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে। আগামী রোববার মৌসুমের প্রথম ‘এল ক্লাসিকো’তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। এরপর বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের পরের রাউন্ডে গ্রিসের ক্লাব এইকে এথেন্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে মরিনহোর শিষ্যরা। একই রাতে আরবি লিপজিগ তাদের ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটিকে আতিথ্য দেবে।