ঢাকার সাভারে সড়কের পাশে রাখা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়েছে। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস উদ্দিন গত সোমবার রাতে এই মামলা দায়ের করেন। এতে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) সাবেক সভাপতি মো. কামরুজ্জামান খান ও বাস মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়সহ মোট ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের তালিকায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে কামরুজ্জামান খানকে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাস মালিক হাবিবুর রহমান হৃদয়কে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য মুরাদ জংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মুরাদ জং ও বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মণ্ডলের পৃষ্ঠপোষকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় নিজের নাম আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান খান। তিনি জানান, তিনি ঢাকায় পেশাদার সাংবাদিকতায় যুক্ত এবং দীর্ঘ সময় ধরে এখানেই বসবাস করছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক কমিটিতে নাম থাকলেও কখনোই দলে সক্রিয় ছিলেন না। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে এই মামলাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তারা স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া সাংবাদিকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান।
মামলার এজাহারে তিনজন সাক্ষীর নাম থাকলেও তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাক্ষী হিসেবে উল্লেখিত আকাশের ফোন নম্বরটি প্রকৃতপক্ষে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা আরিফুল হোসেন ঝালকের। ঝালকের দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তিনি জানান, আকাশ তার সহযোগী হলেও মামলায় নিজের ফোন নম্বর আসার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। অপর সাক্ষী মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে একজন পুলিশ কনস্টেবলের নাম যুক্ত করা হয়েছে।
বাসের অন্যান্য মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাসগুলো রেডিও কলোনি পাম্পের পাশে রাখা হয়েছিল। হৃদয়ের বাসটি মেরামতের জন্য কিছুটা দূরে রাখা ছিল। রাত ৩টার দিকে পাম্পের কর্মীরা আগুনের খবর জানান। হৃদয়ের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ছেলেকে মামলায় জড়িয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে কামরুজ্জামান খান ও বাস মালিকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাওয়ায় তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তে কারো সম্পৃক্ততা না মিললে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যেই সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এছাড়া আশুলিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুট কমেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের নিয়োগসহ অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক্সপ্লেইনার / ৯ লাখ টাকার আপসনামা কি গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের মামলা শেষ করে দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা / জব্দ করা অস্ত্র-গুলি নথিবদ্ধ না করেই বরিশাল র্যাবের কাছে পাঠিয়েছিলেন জিয়াউল আহসান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এজাহারের একটি কপি পেয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্য ডেইল স্টারকে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না এবং আকাশের সম্পৃক্ততার বিষয়েও কিছুই জানি না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার রাত ২টা ৪০ মিনিটে সাভারের রেডিও কলোনি স্টাফ কোয়ার্টারের কাছে ৬০ থেকে ৭০ জনকে একটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়তে দেখেন এসআই আব্বাস উদ্দিন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুলিশ দেখে অধিকাংশ আসামি পালিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।