যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘নরইস্টার’ আঘাত হেনেছে। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের দাপটে নিউইয়র্ক, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে; ঝোড়ো বাতাসে একটি গাছ উপড়ে তাঁর ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট পাওয়ারআউটেজডটকমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই অঞ্চলগুলোতে ৬০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিলেন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, ঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্যানুযায়ী, শনিবার সকালে ব্যাপক সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই ২৫৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। জেটব্লু, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও আমেরিকান এয়ারলাইনসের মতো বড় সংস্থাগুলো ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিনা ফিতে ফ্লাইট পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে। ঝড়ের কারণে যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি ছাড়াই ফ্লাইট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নিচু এলাকাগুলো নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে লং আইল্যান্ডে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে ২০ ফুট বা ৬ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আঘাত হানার ঝুঁকির কথা জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, ঝোড়ো বাতাসে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন বজায় থাকতে পারে। ফ্লাইট বিপর্যয়ের শিকার যাত্রীদের উদ্দেশ্যে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে যেন অবশ্যই সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করে নেওয়া হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের জলোচ্ছ্বাস ও ভাঙনের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সময়ে পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে।