বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নতুন করে আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সম্ভাব্য চূড়ান্ত ব্যয় প্রায় আড়াই বিলিয়ন বা ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এয়ারলাইন্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। তবে এই বিপুল অঙ্কের উড়োজাহাজ কেনা সংক্রান্ত চূড়ান্ত আর্থিক মূল্য, অর্থায়ন প্রক্রিয়া, পরিশোধের শর্ত এবং সরবরাহের সময়সূচি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই হিসাবের কারণে সম্ভাব্য ২৫০ কোটি ডলারের ব্যয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ১১টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির মাধ্যমে বিস্তারিত মূল্যায়নের সুযোগ পায়নি। ফলে উড়োজাহাজ কেনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর করে বিমান। এর আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে। এই নতুন ক্রয়াদেশের ফলে চলতি বছরে বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট উড়োজাহাজ ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
২০১৯ সালে প্রকাশিত বোয়িংয়ের সর্বশেষ তালিকামূল্য অনুযায়ী, পাঁচটি ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২৪২ কোটি মার্কিন ডলার হয়। এই তালিকামূল্যের কারণেই ২৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের হিসাবটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের বাণিজ্যিক বিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘ দরকষাকষির মাধ্যমে দাম নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তিতে মূল্যছাড়, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং রক্ষণাবেক্ষণের মতো বিভিন্ন সেবার শর্ত যুক্ত থাকায় তালিকামূল্যের সঙ্গে প্রকৃত দামের পার্থক্য হতে পারে।
চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল, যার তালিকামূল্য ছিল প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার। ওই চুক্তিতে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সব মিলিয়ে চলতি বছরে বিমানের ক্রয় তালিকায় রয়েছে মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান রয়েছে। বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই বিমানগুলো কেনা হচ্ছে। তবে চুক্তির আর্থিক শর্ত ও প্রকৃত ব্যয়ের বিস্তারিত প্রকাশ পেলে এই প্রকল্পের আর্থিক চিত্রটি পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।