1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখেও ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সচল

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি। তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো স্বাভাবিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশ ধরে রেখেছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সের তথ্য অনুসারে, দেশটির বিদেশগামী মোট ফ্লাইটের প্রায় ৭৫ শতাংশই এখনো এই বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। গত রোববারের ফ্লাইট সূচক পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইরানি বিমান সংস্থাগুলো ১৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের মধ্যে অন্তত ১১টিতে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব রুটে মোট ২৪টি আসা-যাওয়ার ফ্লাইট রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে মার্কিন চাপের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু দেশে। ফার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজারবাইজান, জর্জিয়া, ইরাক, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরগুলো ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। বর্তমানে যেসব দেশে ইরানের ফ্লাইট সচল রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, চীন, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের আকাশপথের যোগাযোগ এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। তেহরান থেকে চীনের গুয়াংজু ও সাংহাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নিয়মিত ফ্লাইট আসা-যাওয়া করছে।

ইরানের ওপর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় গত ৮ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ওই দিন দেশটির বেসামরিক বিমান খাতসংশ্লিষ্ট ৩৬টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে। এর মধ্যে ইরানের নিজস্ব ২৭টি এয়ারলাইন এবং দেশটির বিমান চলাচল খাতে সহায়তা প্রদানকারী কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেহরান বেসামরিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাচ্ছে। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠান ইরানকে বিমান ও এর সংবেদনশীল প্রযুক্তি সংগ্রহে সরাসরি সহযোগিতা করছে বলেও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান সহায়তা প্রদান করলে তারা মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এয়ারলাইনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ, টিকিট বিক্রয় কিংবা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতির মতো মৌলিক সেবাগুলোও পড়েছে।

পরিস্থিতির জটিলতা সম্পর্কে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অবশ্য কিছুটা আশাবাদী। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক কার্যক্রম এখনো সচল আছে এবং ইরানি এয়ারলাইনগুলো ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে। সম্প্রতি তুর্কমেনিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার ফলে তেহরান থেকে দুশানবেগামী একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশের অনুমতির পাশাপাশি পথিমধ্যে বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের এই জটিলতা ইরানের বিমান যোগাযোগকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun