1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ব্যয় বাড়াচ্ছে রাশিয়া, কাটছাঁট শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের নতুন চালান ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের আলোচনা সভা বাস কাউন্টারে টিকিট নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হুথিদের মোকাবিলায় ইয়েমেনে চার কার্গো অস্ত্র পাঠালো পাকিস্তান শাহজালালে কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকির দায়ে মামলা নেতানিয়াহুর ইউএই সফর নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা ইরানের মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রণপ্রস্তুতি: ইরানের চারপাশে কি বড় সংঘাতের ইঙ্গিত?

ভিউ পাওয়ার আশায় খারাপ শিরোনাম হয়: শেহনাজের মন্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

শেহনাজ গিলকে নিয়ে আলোচনা বিনোদন অঙ্গনে নিয়মিত ঘটনা। কখনো তাঁর অভিনয়, কখনো ব্যক্তিজীবন, আবার কখনো কোনো মন্তব্য—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় নানা গুঞ্জন। সম্পর্কের গুজব থেকে শুরু করে ট্রল কিংবা কথার সামান্য এদিক–ওদিকও অনেক সময় বড় খবরের শিরোনাম হয়ে যায়। তবে এসব নিয়ে খুব একটা বিচলিত নন এই অভিনেত্রী। বরং নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় বিষয়গুলো সামলান তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেহনাজকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা গুজব ও নেতিবাচক খবর তিনি কীভাবে সামলান। উত্তরে তাঁর কথাতেই ছিল মজা। শেহনাজ অকপটে বলেন, যাঁরা তাঁকে নিয়ে এমন খবর করেন, তাঁদের উদ্দেশ্য তিনি বুঝতে পারেন—ভিউ পাওয়া। কার সঙ্গে প্রেম করছেন শেহনাজ, ভিডিও ভাইরাল।

নেতিবাচক শিরোনাম ও ভিউয়ের রাজনীতি

শেহনাজ বলেন, ভালো খবর দিয়ে যদি কারও তেমন লাভ না হয়, তাহলে নেতিবাচক বা চমকপ্রদ শিরোনাম দিয়েই হয়তো পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয়। তিনি বলেন, ‘যাঁরা খবরের শিরোনাম দেন, তাঁদের উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পারি। তাঁরা ভিউ চান। খারাপ শিরোনাম না দিলে খবরই বা কীভাবে বিক্রি হবে? আমি যদি কথার মধ্যে কোনো ভুল করে ফেলি, আর সেটাই শিরোনাম হয়ে যায়, তখন আমি শুধু প্রার্থনা করি, আমার কারণে বেচারাদের যেন কিছু ভিউ হয়। এত ভালো কথা বলে তো আমার কোনো লাভ হয়নি, অন্তত কারও একটা উপকার হোক।’

রসিকতার পেছনে পাঞ্জাবি শেকড়

গুরুতর কোনো অভিযোগের জবাব দেওয়ার বদলে এভাবে রসিকতা করেই বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা শেহনাজের স্বভাবের সঙ্গে বেশ মানানসই। কারণ, নিজের এই হাস্যরসকে তিনি কোনো কৃত্রিম কৌশল মনে করেন না। তাঁর মতে, এটা তাঁর ব্যক্তিত্বেরই অংশ। নিজের এই রসিক স্বভাবের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে শেহনাজ বলেন, এর পেছনে রয়েছে তাঁর পাঞ্জাবি শিকড়। তিনি বলেন, ‘পাঞ্জাবি রক্ত তো, তাই আমি কমেডি করি না, কমেডি হয়ে যায়। মানুষ এটাকে মজার মনে করে, পছন্দও করে। আমি আসলে চেষ্টা করে এমন করি না, স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যায়।’

স্বতঃস্ফূর্ততার গুরুত্ব

এই স্বাভাবিকতাই সম্ভবত শেহনাজের জনপরিচিতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তারকাদের অনেকেই ক্যামেরার সামনে নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেহনাজ নিজের কথাবার্তা ও আচরণে অনেকটাই স্বতঃস্ফূর্ত। খ্যাতির সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা বাড়ে, তাই তাঁকে অনেক সময় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কীভাবে কথা বলতে হবে বা সংবাদমাধ্যমের সামনে কীভাবে আচরণ করতে হবে। কিন্তু অন্যের নির্দেশে নিজেকে বদলাতে রাজি হননি তিনি। শেহনাজ বলেন, ‘আমি কখনো কাউকে আমাকে প্রভাবিত করতে দিইনি—কীভাবে কথা বলব, হাঁটব বা সংবাদমাধ্যমের সামনে কীভাবে আচরণ করব। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তুমি যা, সেটাই থাকো। নিজেকে সত্যি করে তুলে ধরতে পারলে মানুষ তোমাকে গ্রহণ করবে।’

শ্রদ্ধা কাপুরের সঙ্গে তুলনা ও জনমত

নিজের স্বভাবের প্রতি এই আস্থার ফল তিনি পাচ্ছেন। বিমানবন্দরে একদিন দুই আলাদা ব্যক্তি তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাঁরা শেহনাজ ও অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুরের সঙ্গে দেখা করতে চান। দুই ব্যক্তিই তাঁকে জানান, দুজনের মধ্যেই তাঁরা একটি মিল খুঁজে পান—দুজনেই নিজেদের মতো থাকেন এবং নিজেদের ভাষা ও শিকড়কে ভালোবাসেন। শেহনাজ বলেন, ‘একবার হলে কাকতালীয় মনে হতো। কিন্তু দুবার একই কথা শুনে আমি জানতে চাইলাম, কেন আপনারা দুজনের নাম একসঙ্গে বলছেন? তাঁরা বললেন, আপনি যেমন, তেমনই থাকেন। আপনি নিজের ভাষাকে ভালোবাসেন, তিনিও (শ্রদ্ধা) তেমন। তখন আমার মনে হলো, দুজন মানুষ যদি এভাবে ভাবেন, তাহলে আরও কত মানুষ হয়তো একইভাবে ভাবেন।’

গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কের বিবর্তন

পাঞ্জাবি গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে বদলেছে। একসময় তাঁকে সাধারণভাবেই দেখা হতো, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। শেহনাজ জানান, পাঞ্জাবি গণমাধ্যমের অনেকেই এখন তাঁর সঙ্গে দেখা হলে জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, তাঁরা তাঁকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন, কারণ তিনি তাঁদের হৃদয় জয় করেছেন। হিন্দি গণমাধ্যম থেকেও ভালোবাসা পান বলে জানিয়েছেন শেহনাজ। তবে দুই পক্ষের ভালোবাসার ধরন তাঁর কাছে আলাদা। তিনি বলেন, ‘পাঞ্জাবি গণমাধ্যমও একসময় আমার সঙ্গে খুব স্বাভাবিকভাবেই আচরণ করত। জানি না কী বদলে গেল। এখন সেখানকার সবাই এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, তাঁরা আমাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন। হিন্দি গণমাধ্যমও আমাকে ভালোবাসে, তবে তাঁদের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, সেটার অনুভূতি একটু আলাদা।’ হিন্দি ও পাঞ্জাবি বিনোদনজগতে কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর বড় অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে।

অনুপ্রেরণা ও প্রাপ্তি

শেহনাজের কাছে জনপ্রিয়তার চেয়েও বড় প্রাপ্তি হলো মানুষের জীবনের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারা। তিনি বলেন, মানুষ যখন তাঁকে জানায় যে তাঁর পথচলা তাদের অনুপ্রাণিত করে, তখন নিজেকে বিশেষ মনে হয়। শেহনাজ বলেন, ‘মানুষ যখন আমাকে বলে যে তারা আমার যাত্রা থেকে অনুপ্রেরণা পায়, আমার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পায়, তখন খুব বিশেষ লাগে। আমি এত ভালোবাসা পেয়েছি যে কখনো কখনো আমার নিজেরও মনে হয়, নিশ্চয়ই আমি কিছু একটা ঠিক করেছি।’ একসময় রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া শেহনাজ গিল এখন অভিনয়েও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি পাঞ্জাবি সিনেমা ‘সিং বনাম কৌর ২’।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun