1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দোহায় বাংলাদেশ স্কুলে কাল থেকে বিজ্ঞান মেলা ও প্রদর্শনী চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে ১৫ বছরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রাতে দলিল নিবন্ধনের হিড়িক ব্রুকলিনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়তে ৪ হাজার ডলারের অনুদান শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী দুর্ভোগ: উত্তরণে করণীয় ও দাবি কাতারে পর্যটনের নতুন রেকর্ড বাংলাদেশে প্রথম সফরে এসে প্রতারণার শিকার জার্মান পর্যটক হুতিদের অব্যাহত হামলায় রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয় কাগজে নয়, মানুষের মতামতে হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহাপরিকল্পনা: এমপি শ্যামল নিয়োগের পদায়ন দাবিতে শিক্ষকদের কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা

পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রাতে দলিল নিবন্ধনের হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

রংপুরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দিনের বেলা দলিলে নানা ত্রুটি ও তথ্যের গরমিলের কথা বলে সেবাগ্রহীতাদের দলিল ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সন্ধ্যার পর চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলা যেসব দলিল ত্রুটিপূর্ণ বলে ফেরত দেওয়া হয়েছিল, অতিরিক্ত টাকা লেনদেনের মাধ্যমে রাতে সেগুলোই নিবন্ধন করা হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কাজ হচ্ছে না।

এর আগে সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডীর দায়িত্ব পালনকালে দিনের বেলায় আপত্তির নামে দলিল আটকে রেখে এবং পরে বাড়তি অর্থের বিনিময়ে রাত পর্যন্ত কার্যালয় খোলা রেখে দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছিল। সেই বার্নার্ড মার্ডীর বিদায়ের পর নতুন অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডল। তবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি একই ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে এই প্রশ্ন তৈরি করেছে যে, কর্মকর্তা বদলালেও পীরগাছা অফিসের পুরোনো দুর্নীতি কি শেষ হবে না? তালুক ইশাদ দুধিয়াবাড়ি গ্রামের মিঠু মাস্টারও একই অভিযোগ করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চাইলে সেই কারণের অনুলিপিও পাওয়ার অধিকার রাখেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার দুপুর থেকেই অন্তত ৫০টি দলিল ফেরত দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের বলা হয়, এসব দলিলে বিভিন্ন ধরনের ভুলভ্রান্তি রয়েছে। ফলে নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় দলিলগুলো নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। বাড়তি অর্থের বিনিময়ে ফেরত দেওয়া ওই দলিলগুলোর অনেকগুলোই আবার গ্রহণ করা হয় এবং রাত পর্যন্ত অফিস খুলে রেখে সেগুলো নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।

ভুক্তভোগী স্বপন বসাক জানান, তিনি সকাল ১০টা থেকে কার্যালয়ে অবস্থান করেও দিনের বেলা কাজ পাননি। অথচ সন্ধ্যার পর সাব-রেজিস্ট্রারকে দলিলে স্বাক্ষর করতে দেখা গেছে। একইভাবে মিঠু মাস্টার অভিযোগ করেন, দিনভর নানা অজুহাতে হয়রানি করার পর সন্ধ্যার পর টাকা দিয়ে তার দলিল নিবন্ধন করা সম্ভব হয়েছে। একজন কৃষক জানান, দুই শতক জমির দলিল নিবন্ধন করতে তাকে সারাদিন ঘোরানো হয়েছে, কিন্তু টাকা দেওয়ার পরই কেবল তার কাজ হয়েছে।

দলিল নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, কোনো দলিল প্রত্যাখ্যান করলে সাব-রেজিস্ট্রারকে অবশ্যই তার কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু পীরগাছা অফিসে বুধবার ফেরত দেওয়া ৫০টি দলিলের ক্ষেত্রে কোনো লিখিত কারণ জানানো হয়েছিল কি না এবং পরে একই দলিল কীভাবে নিবন্ধনের উপযোগী হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৪ এপ্রিল ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই সময়ের বাইরে রাত পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে রাত পর্যন্ত কার্যালয়ের কার্যক্রম চলার ঘটনায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৪ এপ্রিল ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হোক।

সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে অতীতে গঙ্গাচড়া সাব-রেজিস্ট্রার থাকাকালেও ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তিনি তা বরাবরই অস্বীকার করে আইন মেনে কাজ করার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডীর বিরুদ্ধেও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল, যা নিয়ে তিনিও আইনানুগভাবে কাজ করেছেন বলে সাফাই গেয়েছিলেন।

ভুক্তভোগীরা এখন বুধবার ফেরত দেওয়া দলিলগুলোর তালিকা, লিখিত কারণ, পরবর্তী নিবন্ধিত দলিলের তালিকা ও সরকারি ফি আদায়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। তবে এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলেও সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সরাসরি তার নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর নয়। তবে নাগরিক হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun