1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
হুতিদের অব্যাহত হামলায় রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয় কাগজে নয়, মানুষের মতামতে হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহাপরিকল্পনা: এমপি শ্যামল নিয়োগের পদায়ন দাবিতে শিক্ষকদের কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা ঘরেই তৈরি করুন সুস্বাদু সাবুদানার লাড্ডু কর্তৃত্ববাদী নয়, কর্মকর্তাদের সেবক হতে হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে আগ্রহী মার্কিন টেক জায়ান্টরা যুক্তরাষ্ট্রে আকাশচুম্বী বিমানভাড়া: স্পিরিট বন্ধের প্রভাব বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে কাতার ও পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতা ঢাকার গণপরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন

কাগজে নয়, মানুষের মতামতে হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহাপরিকল্পনা: এমপি শ্যামল

এনামুল হক আরিফ, ব্যুরো চিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

কাগজে নয়, মানুষের মতামতে হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহাপরিকল্পনাখসড়া পরিকল্পনাকে ‘তাত্ত্বিক’ আখ্যা দিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মতবিনিময়ের তাগিদ এমপি শ্যামলেরএনামুল হক আরিফ ব্যুরো চিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কর্মশালায় উপস্থাপিত খসড়া মহাপরিকল্পনাকে অনেকটাই তাত্ত্বিক উল্লেখ করে তা বাস্তবতার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।তিনি বলেছেন, শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা তৈরি করলেই হবে না; পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের বাস্তব সমস্যা ও চাহিদা চিহ্নিত করতে হবে। জনগণের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই হতে হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা।বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা মিলনায়তনে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালট্যান্টস (প্রা.) লিঃ তাদের প্রস্তুতকৃত খসড়া মহাপরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম।এ ছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, এডিবি ও এএফডির প্রতিনিধিবৃন্দ, পৌরসভার প্রকৌশলী, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।‘খসড়া মহাপরিকল্পনা অনেকটাই তাত্ত্বিক’কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, উপস্থাপিত খসড়া মহাপরিকল্পনাটি অনেকটাই তাত্ত্বিক মনে হয়েছে। একটি মহাপরিকল্পনা তখনই কার্যকর হবে, যখন সেটির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বাস্তব জীবন, প্রয়োজন ও সমস্যার সরাসরি সংযোগ থাকবে।তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের সমস্যা এক নয়। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও ড্রেনেজ সমস্যা, কোথাও যানজট, কোথাও সড়ক সংকট, আবার কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা মাঠপর্যায়ে গিয়ে চিহ্নিত না করে শুধু অফিসে বসে একটি পরিকল্পনা তৈরি করলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।তাই পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তৃণমূলের সমস্যা চিহ্নিত করেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে’সংসদ সদস্য শ্যামল বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে তৃণমূলভিত্তিক। শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ বের করতে হবে।তিনি বলেন, একটি আধুনিক শহর গড়ে তুলতে শুধু রাস্তা ও ভবন নির্মাণ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা, নিরাপদ সড়ক, কার্যকর ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাহিদা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই মহাপরিকল্পনা করতে হবে।ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বাড়াতে হবে পৌরসভার পরিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও দ্রুত নগরায়ণের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভা এলাকার পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন এমপি শ্যামল।তিনি বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ জনসংখ্যা ও নাগরিক চাপ রয়েছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে। ফলে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না করলে আগামী দিনে শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসন, যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ও নাগরিক সেবার ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।জলাবদ্ধতা-ড্রেনেজ ও যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনার দাবিকর্মশালায় বক্তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যানজট, ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত নানা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।বক্তারা বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে একটি শহরকে পরিকল্পিত নগরে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা। একই সঙ্গে মহাপরিকল্পনায় বর্তমান সমস্যার পাশাপাশি আগামী দিনের নগর সম্প্রসারণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।বাস্তবমুখী মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া টেকসই নগরায়ণ সম্ভব নয়’কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরে পরিণত করতে হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের দিকে নজর দিলেই হবে না। শহরের খাল, জলাধার, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও মহাপরিকল্পনায় গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোথায় আবাসিক এলাকা হবে, কোথায় বাণিজ্যিক এলাকা সম্প্রসারিত হবে, কোথায় শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে—এসব বিষয়ও সুস্পষ্টভাবে পরিকল্পনায় থাকা প্রয়োজন বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।কর্মশালায় উপস্থাপিত খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা মতামত ও পরামর্শ দেন। তাদের মতামত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে খসড়াটি পর্যালোচনা করে একটি জনবান্ধব, বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে তা শুধু বর্তমান নাগরিক সংকট মোকাবিলায় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।কাগজে নয়, মানুষের মতামতে হোক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহাপরিকল্পনাখসড়া পরিকল্পনাকে ‘তাত্ত্বিক’ আখ্যা দিয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মতবিনিময়ের তাগিদ এমপি শ্যামলেরএনামুল হক আরিফ ব্যুরো চিফ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিকল্পিত, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে কর্মশালায় উপস্থাপিত খসড়া মহাপরিকল্পনাকে অনেকটাই তাত্ত্বিক উল্লেখ করে তা বাস্তবতার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।তিনি বলেছেন, শুধু কাগজে-কলমে পরিকল্পনা তৈরি করলেই হবে না; পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের বাস্তব সমস্যা ও চাহিদা চিহ্নিত করতে হবে। জনগণের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই হতে হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা।বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা মিলনায়তনে নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালট্যান্টস (প্রা.) লিঃ তাদের প্রস্তুতকৃত খসড়া মহাপরিকল্পনা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম।এ ছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, এডিবি ও এএফডির প্রতিনিধিবৃন্দ, পৌরসভার প্রকৌশলী, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।‘খসড়া মহাপরিকল্পনা অনেকটাই তাত্ত্বিক’কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, উপস্থাপিত খসড়া মহাপরিকল্পনাটি অনেকটাই তাত্ত্বিক মনে হয়েছে। একটি মহাপরিকল্পনা তখনই কার্যকর হবে, যখন সেটির সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বাস্তব জীবন, প্রয়োজন ও সমস্যার সরাসরি সংযোগ থাকবে।তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের সমস্যা এক নয়। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও ড্রেনেজ সমস্যা, কোথাও যানজট, কোথাও সড়ক সংকট, আবার কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা মাঠপর্যায়ে গিয়ে চিহ্নিত না করে শুধু অফিসে বসে একটি পরিকল্পনা তৈরি করলে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।তাই পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তৃণমূলের সমস্যা চিহ্নিত করেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে’সংসদ সদস্য শ্যামল বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে তৃণমূলভিত্তিক। শহরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যাগুলোর সমাধানের পথ বের করতে হবে।তিনি বলেন, একটি আধুনিক শহর গড়ে তুলতে শুধু রাস্তা ও ভবন নির্মাণ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা, নিরাপদ সড়ক, কার্যকর ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যার চাহিদা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই মহাপরিকল্পনা করতে হবে।ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বাড়াতে হবে পৌরসভার পরিধি,ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও দ্রুত নগরায়ণের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ অবস্থায় ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভা এলাকার পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন এমপি শ্যামল।তিনি বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ জনসংখ্যা ও নাগরিক চাপ রয়েছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে। ফলে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না করলে আগামী দিনে শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসন, যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ও নাগরিক সেবার ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।জলাবদ্ধতা-ড্রেনেজ ও যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনার দাবিকর্মশালায় বক্তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যানজট, ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত নানা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।বক্তারা বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে একটি শহরকে পরিকল্পিত নগরে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা। একই সঙ্গে মহাপরিকল্পনায় বর্তমান সমস্যার পাশাপাশি আগামী দিনের নগর সম্প্রসারণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।বাস্তবমুখী মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া টেকসই নগরায়ণ সম্ভব নয়’কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরে পরিণত করতে হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের দিকে নজর দিলেই হবে না। শহরের খাল, জলাধার, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও মহাপরিকল্পনায় গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোথায় আবাসিক এলাকা হবে, কোথায় বাণিজ্যিক এলাকা সম্প্রসারিত হবে, কোথায় শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে—এসব বিষয়ও সুস্পষ্টভাবে পরিকল্পনায় থাকা প্রয়োজন বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।কর্মশালায় উপস্থাপিত খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা মতামত ও পরামর্শ দেন। তাদের মতামত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে খসড়াটি পর্যালোচনা করে একটি জনবান্ধব, বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে তা শুধু বর্তমান নাগরিক সংকট মোকাবিলায় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun