সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা তাদের পদায়নের তারিখ বারবার পরিবর্তনের প্রতিবাদে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন। ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ ব্যাচ’ জানিয়েছে, আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে সব নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে ওই দিন সকাল ১০টা থেকে সারা দেশের জেলা শিক্ষা কার্যালয়গুলোর সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন তারা। বিদ্যালয়ে শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও কেন পদায়ন আটকে রাখা হবে?’।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ আট মাস তারা বেকারত্বের যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়া সফল করতে তাদের তিন দফায় শাহবাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে একাধিকবার ধরনা দিয়েও সুরাহা মিলেনি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ আট মাস ধরে নিয়োগের পরও অনিশ্চয়তা, অপেক্ষা ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।
শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, গত ২ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে ১ অক্টোবর যোগদানের এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের নির্দেশনা ছিল, যা তথ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমেও প্রচার পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ১১ অক্টোবর পদায়নের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করে এবং পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। তবে প্রশিক্ষণের পরিবেশ ছিল চরম অব্যবস্থাপনাপূর্ণ। সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় খাবারের ন্যূনতম ব্যবস্থাও ছিল না, এরপরও শিক্ষকরা নিজ খরচে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণেও চরম অব্যবস্থাপনা ছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা আরও জানান, প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার পর বিদ্যালয় শাখা-২ থেকে ফের তারিখ পরিবর্তন করে ১৮ অক্টোবর পদায়নের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বারবার অফিস আদেশ পরিবর্তনের ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাদের প্রশ্ন, একটি নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ব্যাচের শিক্ষকদের নিয়ে কেন এই সমন্বয়হীনতা? সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মাগুরার মতো কিছু জেলায় পদায়ন হলেও অন্য জেলাগুলোতে কেন তালবাহানা করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এই সমন্বয়হীনতার বলি হতে হচ্ছে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে।
আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার সারা দেশের ৬১টি জেলার সব উপজেলায় ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী শনিবার দুপুর ২টায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ন্যায্য কর্মস্থলে যোগদানের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আগামীকালের সব ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ ৬১ জেলার সব উপজেলায় বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ পাওয়ার পর প্রশিক্ষণও শেষ করেছেন শিক্ষকরা। এখন তাদের একমাত্র চাওয়া দ্রুত বিদ্যালয়ে যোগদান করে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করা। তারা অবিলম্বে এই দীর্ঘসূত্রতা নিরসন করে সব শিক্ষকের কর্মস্থল চূড়ান্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।