হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মী আদালতে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত এই দুই কর্মীর নাম মানিক মিয়া ও মিজানুর রহমান। শনিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাঁদের আদালতে তোলা হলে ঢাকা মহানগর হাকিম হাসান শাহাদাত তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আবুল কাইয়ুম আসামিদের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করার আবেদন জানিয়েছিলেন। এর আগে, গত রোববার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করেন। দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবস্থান করার সময় তল্লাশি চালিয়ে এই দুই কর্মীর জুতার ভেতর থেকে সোনার বারগুলো জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ৮০টি সোনার বারের প্রতিটির ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম করে, যার মোট ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর আগে গত রোববার সকালে দুই বিমানের কর্মীকে আটকের কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ঘটনার পর সোনার উৎস, কোথায় এগুলো সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল এবং চোরাচালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এই ঘটনায় ওই দিনই শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রুহানি ইসলাম বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। জবানবন্দি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে, পাচারের নেপথ্যে থাকা চক্রের উৎস, গন্তব্য এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিমানবন্দরের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই পাচার চলছিল, সেটিও এখন মামলার অন্যতম প্রধান তদন্তের বিষয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।