আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। চতুর্থ ইনিংসে ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান ১৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ বোলাররা আফগানদের শেষ সাতটি উইকেট তুলে নিতে পারেনি, বরং দিনশেষে কেবল পাঁচটি উইকেট শিকার করতে সমর্থ হন তারা। ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি। আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় হাতছাড়া হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সারা দিন বোলিং করেও আফগানিস্তানের শেষ ৭ উইকেট তুলে নিতে পারেনি টাইগাররা।
ম্যাচ শেষে পরাজয় এড়ানোয় প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একই সঙ্গে নিজের দলের সুযোগ নষ্টের আক্ষেপও গোপন রাখেননি তিনি। শান্ত বলেন, এটি অত্যন্ত হতাশাজনক, তবে আফগানরা দারুণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, বোলাররা প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন, তবে স্পিনাররা প্রত্যাশিত টার্ন না পাওয়ায় শেষ সেশনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।
বাংলাদেশ দলের হতাশার বড় কারণ হলো শেষ বিকেলের স্নায়ুচাপ সামলাতে না পারা। বিশেষ করে ১২২তম ওভারে দুটি রানআউট মিস এবং হাসান মাহমুদের হাতে থাকা সহজ একটি ক্যাচ ফসকে যাওয়া ম্যাচ জয়ের পথ কঠিন করে দেয়। এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিপক্ষের নজরকাড়া লড়াইয়ের প্রশংসা করলেও শেষ সেশনে বেশ কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ শোনা গেল তার কণ্ঠে। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগানো যায়নি।
আফগান ব্যাটার সেদিকউল্লাহ অটল ৩৩২ বলে ১১১ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে দলের ভিত গড়ে দেন। দিনের শেষ ঘণ্টার শুরুতে তাইজুল ইসলাম তাকে আউট করে জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন। তবে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ইয়ামিন আহমদজাই ৮৫ বলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরার পর কাইস আহমেদের সাথে জুটি বেঁধে জিয়া-উর-রেহমান শেষ ৫ ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেন। কাইস ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন এবং জিয়া ১২টি বল মোকাবেলা করে কোনো রান না করলেও দলকে ড্র নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন। অসামান্য দৃঢ়তা দেখিয়ে ওপেনার সেদিকউল্লাহ অটলের সেঞ্চুরি এবং লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের প্রবল প্রতিরোধে জয়বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।
টেস্টের পুরো ম্যাচজুড়ে উইকেটে বোলারদের জন্য তেমন সহযোগিতা ছিল না, যার ফলে স্পিনারদের লড়াই ছিল বেশ কঠিন। তবুও পুরো সিরিজের অভিজ্ঞতা পরবর্তী লড়াইয়ের জন্য দলকে প্রস্তুত করবে বলে বিশ্বাস অধিনায়কের। এর আগে, সিরিজের শুরুর দিকে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ এবং লিটন-সাকিবের জুটিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানও এসেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত জয়বঞ্চিতই থাকতে হলো টাইগারদের।