ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমে এখন উত্তপ্ত পরিবেশ। চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হারের পর ক্লাবের নীতিনির্ধারকদের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকা মাইকেল ক্যারিকের দলের পারফরম্যান্স ও দলবদলের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। চলতি মৌসুমে খেলা নয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতেছে ম্যানইউ। গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার পেল ন্যাশনাল ব্যাংক। এনসিপির পুনর্গঠন, শীর্ষ নেতৃত্বে আসছে বড় রদবদল। ম্যানইউ কর্তাদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন লিসান্দ্রো, রুনির পাল্টা তোপ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার স্বস্তি উবে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। মাঠে টানা ব্যর্থতার মাঝেই এবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক। মঙ্গলবার রাতে ইউরোপিয়ান সেরা টুর্নামেন্টে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে ম্যানইউ।
ম্যাচ শেষে ক্লাবের কারিগরি পরিচালক জেসন উইলকক্সের দিকে আঙুল তুলে লিসান্দ্রো দাবি করেন, গত মৌসুমের পর স্কোয়াড যেভাবে শক্তিশালী করার কথা ছিল, তা করা হয়নি। তিনি বলেন, খেলোয়াড় বা কোচদের দোষ দেওয়া সহজ, কিন্তু ক্লাবের গভীরতা বাড়াতে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল, তা না হওয়ায় আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পিএসজির বিপক্ষে নামার আগে যেসব রেকর্ডের সামনে হালান্ড। হুতি হামলার মুখে প্রাসাদ বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ সালমান।
লিসান্দ্রো আরও বলেন, একের পর এক কোচ বদলে কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। গত মৌসুমে যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখতে না পারার ব্যর্থতা কার—এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি। আক্রমণভাগে বেনিয়ামিন সেসকো কিংবা লেফট-ব্যাকে লুক শর উপযুক্ত বিকল্প না আনার বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।
এদিকে, লিসান্দ্রোর এমন প্রকাশ্য মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্লাবের সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনি। অ্যামাজন প্রাইমের বিশ্লেষণে রুনি বলেন, লিসান্দ্রোর এই ধরনের বক্তব্য দলের ঐক্যে ফাটল ধরাবে এবং সতীর্থদের পরোক্ষভাবে অযোগ্য প্রমাণ করবে। রুনি মনে করেন, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিষয় সংবাদমাধ্যমে আনা এক ধরনের আত্মকেন্দ্রিক আচরণ।
নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রুনি বলেন, ২০১০ সালে তিনিও একইভাবে ম্যানইউ বোর্ডের সমালোচনা করে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের রোষানলে পড়েছিলেন। সেই ভুলের কথা স্বীকার করে রুনি বলেন, আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম যে ওটা ভুল ছিল এবং ক্ষমা চেয়েছিলাম। দলের এই কঠিন সময়ে লিসান্দ্রোর এমন বিদ্রোহ দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করবে বলেও সতর্ক করেছেন রুনি।
এদিকে, মাঠের লড়াইয়েও সময়টা ভালো যাচ্ছে না ম্যানইউর। ১০ জন নিয়ে খেলেও ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারতে হয়েছে তাদের। এছাড়াও, মৌসুমের শুরু থেকেই হালের কাছে পয়েন্ট হারানোর হতাশা এবং হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে ডরগুর ১০ সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার বিষয়টি দলটিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সব মিলিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডে যেন মাঠ ও মাঠের বাইরের সংকট এখন একই রেখায় এসে দাঁড়িয়েছে।