হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পাওয়ার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দিয়েছে জাপানি প্রতিষ্ঠান সাব ওয়ার্কিং গ্রুপ। গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি মাসাহিরু হিরাই এই প্রস্তাবনা বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি নতুন ধাপে প্রবেশ করল।
জমা দেওয়া প্রস্তাবের মধ্যে কারিগরি ও আর্থিক—এই দুটি পৃথক নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি এই নথিগুলো যাচাই-বাছাই করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, প্রথমে কারিগরি প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করা হবে এবং সেখানে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আর্থিক প্রস্তাবটি পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে। এরপর দর-কষাকষি ও সমঝোতার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে এবং সব প্রক্রিয়া শেষে চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ নির্ধারিত হবে।
প্রস্তাবটি মূল্যায়নের জন্য গঠিত কমিটিতে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এবং সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টার্মিনালটি পরিচালিত হলে অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সহজ হবে। এর ফলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আধুনিক হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
টার্মিনালটি পুরোপুরি চালুর আগে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করাকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাব মূল্যায়ন, আর্থিক আলোচনা এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমেই এর পরিচালন কাঠামো নির্ধারিত হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে শাহজালাল বিমানবন্দর যাত্রীসেবা ও বিমান ব্যবস্থাপনায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।