আইপিএল মানেই যেখানে চার-ছক্কার জোয়ার আর বোলারদের রান বাঁচানোর চরম সংগ্রাম। সেখানে বরাবরই এক ব্যতিক্রমী ও ত্রাস ছড়ানো চরিত্রের নাম জাসপ্রিত বুমরাহ। তবে এবারের আইপিএলে সেই চেনা ছন্দের ধারেকাছেও নেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের এই ‘নিউক্লিয়াস’। আসরে ১৩টি ম্যাচ খেলে ফেললেও উইকেটের সংখ্যা এখনো ৫-এর কোটা ছুঁতে পারেনি। বুমরাহ’র এমন নজিরবিহীন অফ-ফর্ম নিয়ে ক্রিকেটমহলে যখন তুমুল আলোচনা, ঠিক তখনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচ ও শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধন।
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৪টি উইকেট শিকার করেছিলেন বুমরাহ। মাত্র ৬.২১ ঈর্ষণীয় ইকোনমি রেটে বোলিং করে ভারতের টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন দারুণ ভূমিকা। তবে জয়াবর্ধনের দাবি, আইসিসির এই মেগা ইভেন্টটিতে বুমরাহ সম্পূর্ণ ফিট ছিলেন না, বরং চোট নিয়েই দেশের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। আর সেই চোটের নেতিবাচক প্রভাবই এসে পড়েছে তার আইপিএল পারফরম্যান্সে।
বুমরাহ’র চোট নিয়ে জয়াবর্ধনে বলছেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পরও বুমরাহ’র হালকা চোট ছিল, যা নিয়েই সে পুরো বিশ্বকাপ খেলে এসেছে। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফেরার পর আমরা তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিয়েছি। আইপিএলের প্রথম চার-পাঁচটি ম্যাচ ছিল মূলত তার চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার একটি ধারাবাহিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। আর ঠিক ওই কারণেই শুরুর ম্যাচগুলোতে তার বোলিংয়ের স্বাভাবিক গতি কিছুটা কম ছিল।’
চলমান আইপিএলে বুমরাহ’র বোলিংয়ের গতি বেশ কমে গেছে বলে বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে আসছিল। যদিও সঠিক কারণটা জানা যাচ্ছিল না। পুরো বিষয়টি নিয়ে মুম্বাইয়ের প্রধান কোচ বলছেন, ‘এখন সে চোট কাটিয়ে পূর্ণ গতিতে বোলিং করছে এবং গত চার-পাঁচটি ম্যাচে ভালো ছন্দে ফিরেছে। তবে একজন বোলার যখন এই ধরনের জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, তখন মাঠে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার ধার কিছুটা কমে যায়। কারণ, তখন তাকে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজের ইনজুরিটাও সামলাতে হয়।’
ভারতীয় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এবার দলের হয়ে ১৩ ম্যাচের সবকটিতেই খেলেছেন বুমরাহ। যেখানে উইকেট নিতে পেরেছেন স্রেফ ৪টি। যা তার নামের পাশে একদমই মানানসই নয়। এ ছাড়া ২০১৫ সালের পর এই প্রথম আইপিএলে ওভারপ্রতি আটের বেশি (৮.৩৬) রান দিয়েছেন তিনি। এর আগে আইপিএলে ১০টির বেশি ম্যাচ খেলে কেবল একবারই পাঁচের বেশি উইকেট নিতে পারেনি বুমরাহ। সেটাও সেই ২০১৪ সালে, তার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে।
ওই আসরে বুমরাহ ১১ ম্যাচে ৭.৫৮ রানের গড়ে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ারে চূড়ান্ত সময়ে এসে তার বোলিংয়ে এমন করুণ দশা বেশ আলোচিত। তার মতো বাজে ফর্ম যাচ্ছে মুম্বাইয়েরও। যৌথভাবে সর্বোচ্চ শিরোপা জেতা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এবারের আইপিএলে ১৩ ম্যাচ খেলে স্রেফ চারটিতে জয় পেয়েছে দলটি। প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত করা দলটি পয়েন্ট টেবিলের নবম স্থানে আছে। বাকি আছে আরেকটি ম্যাচ।