1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা ‎সাভারে বায়নাকৃত জমির সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে বাঁধা ও প্রাণনাশের হুমকি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাতারের প্রয়াত আমির শেখ হামাদ বিন খলিফাকে স্মরণ প্রেক্ষাপট: নতুন কারা মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করলেন হাইকোর্ট ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে দিনাজপুরে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা কুড়িগ্রামে সার সংকট চরমে: বরাদ্দ চেয়েও মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী সার, দিশেহারা কৃষকরা সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম রুখতে আসছে অভিন্ন ও একক দরতালিকা ঢাকায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে মিয়ামি কনস্যুলেটে স্মারকলিপি ছয় বছরের বিরতির পর গুয়াংজু-দিল্লি সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে চায়না সাউদার্ন

চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও চার দফা দাবি: কেন এখনো মেলেনি সমাধান?

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের চা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাজপথে সোচ্চার। তাদের প্রধান দাবি হলো দৈনিক মজুরি বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা। মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে—২০২৩ সালের বিতর্কিত গেজেট বাতিল করা, চা জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বিটিডব্লিউইউ) নির্বাচন অবিলম্বে আয়োজন করা।

২০২৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা থেকে মাত্র ৯ টাকা বাড়িয়ে ১৯৬ টাকা করা হয়েছে। শ্রমিকদের মতে, বর্তমান বাজারে পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের শুধু খাদ্যের চাহিদা মেটাতেই প্রতিদিন ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা প্রয়োজন। ফলে ৫০০ টাকা মজুরির দাবি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন। ২০২২ সালে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলনের পর মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়েছিল, কিন্তু নতুন গেজেটে সেই দরকষাকষির সুযোগ বন্ধ করে বছরে মাত্র ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে, যা শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

শ্রমিকদের অভিযোগ, পাতা তোলা, গাছ ছাঁটাই বা কীটনাশক ছিটানোর মতো কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা যে পারিশ্রমিক পান, তা অমানবিক। অথচ শ্রীলঙ্কার চা বাগানের শ্রমিকরা দৈনিক প্রায় ৬৫০ টাকা এবং ভারতের কেরালার শ্রমিকরা প্রায় ৭১০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। বাংলাদেশের বাগান মালিকরা কেন একই সক্ষমতা দেখাতে পারছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মালিকপক্ষের দাবি, নগদ মজুরির বাইরে তারা রেশন, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো সুবিধা প্রদান করেন, যার আর্থিক মূল্য ৫০০ টাকার বেশি। তবে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী, রেশন ছাড়া অন্য কোনো সুবিধাকে মজুরি হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। আইন অনুযায়ী, বাসস্থান বা পানি সরবরাহের মতো বিষয়গুলো মালিকের বাধ্যতামূলক দায়িত্বের অংশ, যা কোনোভাবেই শ্রমিকের মজুরির বিকল্প হতে পারে না।

চা শ্রমিকদের জীবনমান ও আইনি অধিকারের বিষয়টিও অত্যন্ত নাজুক। দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে বাগানে বসবাস করলেও তাদের ভূমির ওপর কোনো আইনি মালিকানা নেই। সরকারি খাস জমিতে বাগানগুলো পরিচালিত হলেও শ্রমিকরা সেখানে কেবল আশ্রিত হিসেবে থাকছেন। কাজ ছাড়লে তাদের কয়েক প্রজন্মের বসতবাড়িও ছেড়ে দিতে হবে—এই ভয় তাদের জিম্মি করে রেখেছে।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও উঠেছে। ৫০০ টাকা মজুরি আন্দোলনের নেত্রী গীতা রানী কানুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া, ২০১৮ সালের পর থেকে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ইউনিয়ন নেতা মালিকপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে শ্রমিকদের আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই ইস্যুটি গুরুত্ব পেয়েছিল। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাইস-ইনডেক্স বেইজড মজুরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মতো নেতারা অতীতে শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। চা শ্রমিকরা সেই প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখে বিএনপি প্রার্থীদের জয়ী করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বা সরকার পরিবর্তনের পরেও শ্রমিকদের দাবি পূরণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

চা বাগানের উৎপাদনশীলতা কম—মালিকপক্ষের এমন অজুহাতও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ না করে বা উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নত না করে সব দায় শ্রমিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক। একদিকে ব্রিটিশ মালিকানাধীন কোম্পানি ও বড় কর্পোরেশনগুলো ভর্তুকি মূল্যে সার ও সরকারি জমি ইজারা পাচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বর্তমানে চা শ্রমিকরা চরম দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের জীবন অনেকটা ছাঁটাই করা চা গাছের মতোই সীমাবদ্ধ। এই সংকট নিরসনে অবিলম্বে চার দফা দাবি মেনে নেওয়া এবং গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানুর মুক্তি দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গু প্রতিরোধে তরুণ সমাজের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জ্বালানি ও সারের খরচের ধাক্কা যেভাবে সামলাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইউএস ওপেন / দাদির আত্মত্যাগ আর ২৩ বছরের হাহাকার: ইতিহাসের সামনে শেলটন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্রিকসের বিবর্তন ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর বাইরে শিক্ষা, চিকিৎসা, বস্ত্র, বাসস্থানসহ অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাধারণত প্রতি দুই বছর পরপর মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের দরকষাকষির মাধ্যমে চা শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২২ সালে ৩০০ টাকা মজুরি নির্ধারণের আন্দোলনের পর শ্রমিকদের মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে দৈনিক মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকা করে মজুরি বাড়ে, যা একেবারেই অপ্রতুল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun