গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই একই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তার ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি। এ ঘটনায় তিনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও পুনরায় হামলার শিকার হন তিনি। এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি।
কাতারি টেলিভিশন চ্যানেল আল আরাবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেইদারি দাবি করেন, তেহরানের তিনটি হাসপাতালে ধারাবাহিক বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন মোজতবা। তৃতীয় হাসপাতালটির ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য শোনা গেলেও হেইদারি তাকে সুস্থ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম বলে দাবি করেছেন। যদিও এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ৮ মার্চ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। হেইদারির ভাষ্য অনুযায়ী, কুম শহরের সচিবালয়ে হামলার পর নিরাপত্তার খাতিরে সদস্যদের একটি গোপন বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়েছিল। হেইদারি নিজেই মোজতবার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। ওই গোপন ভোটে ৫৯ জনের মধ্যে ৫০ জন মোজতবার পক্ষে রায় দেন। বাকিদের মধ্যে আটজন আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির পক্ষে ভোট দেন এবং একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।
হেইদারি আরও দাবি করেন, কুম শহরের ওই সচিবালয়ে হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছিলেন এবং নেতৃত্ব নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিপত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মোজতবার নেতৃত্বের সক্ষমতা, ধর্মীয় যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতার ওপর ভিত্তি করেই তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মোজতবা খামেনির বর্তমান স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে মোজতবা গুরুতর আহত হয়েছেন কিন্তু বেঁচে আছেন। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তবে তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভোটের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যায়।