1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইন্দোনেশিয়ার কাছে অসহায় বাংলাদেশ: বিরতির আগেই হজম ৬ গোল আমাদের ৫টি মিনিট সময় দিন, আশুলিয়ার মাদ্রাসা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাস্ট পরিবারের আরজি বরিশাল নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার মৃত্যুতে চাঞ্চল্য বাংলাদেশ সিরিজের জন্য আফগানিস্তানের দল ঘোষণা: নেতৃত্বে রহমত শাহ পাবনার শরৎনগর পশুর হাট: গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগ: আসন শূন্য ঘোষণা ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসিক এলাকায় ছোট বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৪ কাতারে ৩০ সেপ্টেম্বরের চাকরির খবর ও কিছু জরুরি সতর্কতা ডিসেম্বরে কোনো অস্থিরতা সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাদ পড়া ৪৬ জনের গেজেট সোমবার প্রকাশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ: বিতর্ক ও অস্থিরতা থামছেই না

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য বা ভিসি নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও বিতর্ক যেন কাটছেই না। প্রায় প্রতিটি নিয়োগের পর কোনো না কোনো মহল থেকে সমালোচনা উঠছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাগুলো এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিরই প্রমাণ বহন করে। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে কেন পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে না। নিয়োগের পর বিতর্ক উঠলে ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে, নিয়োগের আগেই প্রার্থীদের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই কেন করা হয় না—সেই দাবি এখন জোরালো হয়েছে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) গত আট দিন ধরে অচলাবস্থা চলছে। মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল আলমকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সাবেক ভিসিকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই ড. শেখ শরিফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন বলে জানা গেছে, যা পরিস্থিতির আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মাত্র ৩৭ দিন পর ২৫শে আগস্ট তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি করা হয়।

একইভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতেও নতুন ভিসি নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমানকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। নিয়োগের পরপরই শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন। তাদের দাবি, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট থেকে কাউকে ভিসি হিসেবে চান না। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক প্রতিবাদের মধ্যেই তিনি বারিধারার অস্থায়ী কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভিসি পরিবর্তন করা হলো। এছাড়া সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও ভিসি অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের পদত্যাগ ও অপসারণের দাবিতে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ। গত ৭ই সেপ্টেম্বর এই দাবিতে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে এগারো জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছিলেন। অষ্টম দিনের মতো চলা এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তারাও। এতে বিষয়টি সুরাহা হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের পর নিয়োগ বাতিল বা পরিবর্তনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত ১৪ই মে দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ঘণ্টা না পেরোতেই নিয়োগ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। এছাড়া গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিকে ক্যাম্পাস থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৪ই মে নিয়োগের পর শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রবল বিরোধিতা ও ‘নতুন ভিসিকে লাল কার্ড’ কর্মসূচি পালন করেন, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নিয়েছিল এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছিলেন। একই চিত্র দেখা গিয়েছিল গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। কোথাও টাইপিং ভুলের কারণ, আবার কোথাও নিয়োগের পরপরই অসন্তোষের জেরে ভিসি পরিবর্তন করতে হয়েছে সরকারকে। আবার একই নামে দুই ভিসি; ২৩ দিনের মাথায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ভিসি বদল নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

ভিসি নিয়োগের এই প্রক্রিয়া ও সার্চ কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। ১লা এপ্রিল গঠিত সার্চ কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ইউজিসি সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু এরপরও কেন বিতর্ক এড়ানো যাচ্ছে না তা নিয়ে চিন্তার উদ্রেক হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক ভিসি বলেন, কোনো শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে আবার সরিয়ে দেওয়া শুধু অযৌক্তিক নয়, এটি শিক্ষকের জন্য অসম্মানজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি নিয়োগের পর পূর্বের বিতর্কিত কাজের কথা সামনে আনতেই হয়, তবে নিয়োগের আগে সেই তথ্য যাচাই কেন করা হয়নি? এছাড়া তিনি দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এস এম ফায়েজ মনে করেন, সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। তার মতে, সার্চ কমিটির বাইরে নিয়োগের ক্ষেত্রেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা কঠিন কিছু নয়, একটু আন্তরিক হলে এসব বিতর্ক এড়ানো সম্ভব ছিল। তিনি আরও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, যে সব শিক্ষক লবিং করে ভিসি হতে চান, তারা শুরুতেই অযোগ্যতার পরিচয় দেন। সুতরাং, ভবিষ্যতে লবিং করা প্রার্থীদের আবেদন শুরুতেই বাতিল করার পরামর্শ দেন তিনি। সবমিলিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মর্যাদা রক্ষায় এবং প্রশাসন পরিচালনায় স্বচ্ছ ও যোগ্যতানির্ভর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এমনি পরিস্থিতি দাঁড়ায় যে, ভিসি যোগদান করার পরও ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun