পর্তুগাল ফুটবল দলের হেড কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়েছেন তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশনস লীগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোচনার ঝড় উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত হেড কোচের সাথে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় ক্যাম্প ত্যাগ করেন। এটা চতুর্থ দিন, তাই সে অনুশীলন করবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন রোনালদো। তিনি জানান, কোচের সংবাদ সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েঙ্কার সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোনালদো তার বার্তায় লিখেছেন, জাতীয় দলের কোচের ব্রিফিং এবং সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর আমি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলের প্রতি আমার প্রতিশ্রুতি সবসময় অটুট ছিল এবং সঠিক সময়ে দল ছাড়ার আসল কারণ আমি সবাইকে জানাব। এছাড়া পর্তুগাল এবং বর্তমান সতীর্থদের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও জানিয়েছে যে, বাকি ২৪ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে ডেনমার্ক ও নরওয়ে ম্যাচের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।
বিভিন্ন পর্তুগিজ গণমাধ্যমের তথ্যমতে, কোচ জেসুস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শেষ করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পার্কেন স্টেডিয়াম থেকে বের হয়ে যান রোনালদো। পর্তুগিজ সংবাদপত্র ‘আ বোলা’র ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, জেসুস অনুশীলন নিয়ে কথা বলার পরপরই রোনালদো এফপিএফের গাড়িতে করে স্টেডিয়াম ত্যাগ করছেন। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস রোনালদোর অনুশীলন বর্জনের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, রোনালদো অনুশীলন করতে অস্বীকার করেনি এবং বিষয়টি অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে এমন একটি বিষয় নিয়ে রোনালদোর সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য করেছে যার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সে বলেছিল, আমি আপনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আপনি চাইলে খেলব, না চাইলে গ্যালারিতে থাকব।’ বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর রবার্তো মার্টিনেজের স্থলাভিষিক্ত হন জেসুস।
উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে রোনালদো জানিয়েছিলেন, গণমাধ্যম তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে এবং কোচ চাইলে তিনি জাতীয় দল থেকে এখনই অবসর নিতে প্রস্তুত। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিনগুলোতে ইনজুরি ছাড়াই জিমে সময় কাটিয়েছিলেন রোনালদো। জেসুস এ প্রসঙ্গে বলেন, রোনালদো তার ওপর ক্ষুব্ধ থাকলেও বিষয়টি এখন অতীত। পর্তুগালের হয়ে সর্বাধিক ২৩৪ ম্যাচ খেলা ও ১৪৬ গোল করা এই ফুটবল তারকার এই পদক্ষেপে দলটির পরবর্তী কৌশল নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১৪৬ গোল) এবং সর্বাধিক ম্যাচ খেলা (২৩৪) খেলোয়াড় রোনালদো গত সপ্তাহেই বলেছিলেন, বছরের পর বছর ধরে গণমাধ্যম তাকে ‘মেরে ফেলার’ চেষ্টা করছে, আর কোচ তাকে দলে না চাইলে তিনি ‘আজই’ ছেড়ে যেতে। দায়িত্ব নেয়ার পর এখন পর্যন্ত পর্তুগালের দুটি ম্যাচে ডাগআউটে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত রোববার অ্যাওয়ে ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে রোনালদোকে মাঠে নামাননি জেসুস।