1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৩০ সালে শীর্ষ ৩০-এ যেতে পারে: ইইউ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি অন্যতম।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মাইকেল মিলার বলেন, আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ তার উন্নয়ন যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন অংশীদার হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিনি আরও বলেন, ইইউ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আর শুধু দাতা ও সাহায্যগ্রহীতার প্রচলিত কাঠামোয় দেখতে চায় না। বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও যাচাই করছে ইইউ। তবে সম্ভাব্য এফটিএর আগে দুই পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় অভিন্ন ভিত্তি তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিনিয়োগ ও আধুনিকীকরণে ইইউ-এর ভূমিকা

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্কের সাফল্য কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে না। ইউরোপীয় মূল্যবোধের সঙ্গে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশে প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবের একটি বড় মূল্য সংযোজন হলো সরকারি প্রশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা। মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপ সামলে আধুনিক ও শক্তিশালী অর্থনীতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, সহনশীল ও বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে—এই লক্ষ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অংশীদারত্বের প্রস্তাব। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন মানে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়, বরং বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান লেনদেননির্ভর বাস্তবতায় দেশ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন নির্ভরযোগ্য অংশীদার প্রয়োজন যারা প্রতিটি সম্পর্ককে কেবল একটি লেনদেন হিসেবে দেখে না। এই ধারাবাহিক সংস্কার ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের আধুনিকায়নে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা করছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান সংহত করতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান অনিশ্চয়তার সময়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদারিত্বই হলো টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি। বাংলাদেশের এই যাত্রা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই ইইউ বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীরে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছে। উন্নয়নের এই ধারায় বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন তিনি। পরিশেষে, তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান বাজার কাঠামো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং সুশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিবেচনায় বাংলাদেশের পরিধি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেক বড়। মাইকেল মিলারের ভাষায়, বাংলাদেশের জন্য ইইউর মূল বার্তা হলো—বাংলাদেশ যে গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাবে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তার মতে, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষ জনশক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun