1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শ্রমিকের অধিকার রক্ষা ও কর্মসংস্থানই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন তিন সিটির উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্পে ৫ হাজার কোটি ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর ৮১টি যুদ্ধযান ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস অস্ট্রেলিয়ায় চার বছরে ৬.৫ লাখ অস্থায়ী ভিসা বাতিলের ঘোষণা শৃঙ্খলাভঙ্গ: নিজের কঠোর শাস্তির আবেদন রোনালদোর পাঁচ পাতার চিঠিতে জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধিতে চাপে দেশের বিমান পরিবহন খাত রসায়নে নোবেল জয় জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানীর দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কুড়িগ্রামে দুই ইউএনওর বিরুদ্ধে শিক্ষক বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রতিবাদ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শুরু ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা

দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

শিশুদের নিজেদের প্রতিভা ও গুণাবলী বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন তার সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভবিষ্যৎও নির্ভর করে শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ এবং এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছ, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।

শৈশবের স্মৃতিচারণ

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি মূলত শিশুদের নিয়ে, তাই বড়দের বক্তব্যের চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনিও এখানে এসেছিলেন। এমনকি শিশু একাডেমির ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রদর্শিত বোর্ডে সেই পুরোনো লেখা দেখে তিনি স্মৃতিচারণ করেন।

প্রতিভা বিকাশে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শিশুদের শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি ও সংগীতচর্চার প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেকের ভেতরেই কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। কেউ ছবি আঁকতে পারে, কেউ আবৃত্তি, গান, নাচ কিংবা বাদ্যযন্ত্রে দক্ষ। গিটার, হারমোনিয়াম বা বাঁশি শেখার পাশাপাশি যারা কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে, তাদের সেই প্রতিভা ভালোভাবে রপ্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করছে। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে সারাদেশের ২২ লাখ শিশু ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে। এছাড়াও ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের আদলে পুনরায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু- ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ক্রীড়া আয়োজন সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে। সরকারপ্রধান আরও বলেন, এ-সংক্রান্ত কাজগুলো মোটামুটিভাবে গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। একটি তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা ভবিষ্যতে বিদেশে পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে শিশুদের সহায়তা করবে।

শিক্ষার নতুন পরিকল্পনা ও মানবিক মূল্যবোধ

  • সব শিশুর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে স্কুল পর্যায় থেকেই শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • ২০২৭ ও ২০২৮ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের ক্ষেত্র বেছে নেওয়ার পূর্ণ সুযোগ পাবে।
  • উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিজের মতো বিদেশি ভাষা শেখার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • প্রধানমন্ত্রী শিশুদের মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল পুঁথিগত বিদ্যায় কাজ হবে না, প্রকৃতি, পশুপাখি ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।
  • বাড়ি বা স্কুলের গাছের যত্ন নেওয়া এবং পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণ করার মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই সুবিধাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন যাতে প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যোগ্যতার বিকাশ ঘটাতে পারে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun