কাতারের রেসিডেন্সি বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে চাচ্ছেন, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট। সম্প্রতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কাতার পুলিশের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ বিভাগের ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি অভিযোগ নেই, তারা অনায়াসেই পুলিশের সিআইডি বিভাগে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ভিসা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মেজর আল-বুরাইদি জানিয়েছেন, এই ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে জরিমানার পরিমাণ এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, কর্মীর আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে। একইভাবে, কোনো নিয়োগকর্তা বা স্পন্সর যদি কর্মীর আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা দিতে হবে।
অবৈধ অবস্থান, অনুমতি ছাড়া অন্য স্থানে কাজ করা বা কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে মেজর আল-বুরাইদি পরিষ্কার করেছেন যে, তাদের ডিটেনশন সেন্টার কোনো শাস্তিমূলক কেন্দ্র নয়। এটি মূলত দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক অবস্থানের একটি জায়গা। এখানে অবস্থানকালে প্রবাসীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত ও সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্যত্র কাজ করা, আকামা নবায়ন না করা এবং কাজ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সবাইকে সতর্ক করেন আলবুরাইদি।
রেসিডেন্সি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব সমস্যার সমাধান স্থানীয় সেবা কেন্দ্রে সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে। রেসিডেন্সিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন।