মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে কোনো নারীকে নিয়োগ দেওয়া হলো। দেশটির সংসদ নির্বাচনে মধ্যপন্থী দল ‘পিএএম’ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করায় রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ দলটির নেত্রী ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পায়, রাজা সেই দলের প্রতিনিধিকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলব বিএফআইইউর। মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ডিএনসিসির ৩ গাড়িতে আগুন। ব্রেক্সিটে ‘ভালোর চেয়ে মন্দ বেশি’, ইইউতে ফিরতে পারে যুক্তরাজ্য: বার্নাম। ঢাকায় হামলা-ভাঙচুর-দখল চেষ্টার ৩ ঘটনার প্রধান আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাতিমা জাহরাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রাজা যখন জুমার নামাজ বা ঈদের জামাতে অংশ নেন, তখন নারী-পুরুষ আলাদা সারিতে বসার প্রথা থাকায় তার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না।
বিবিসির তথ্যানুযায়ী, তিউনিসিয়ার নাজলা বোদেনের পর আরব বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা। মরক্কোর সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে যদিও রাজার হাতেই প্রকৃত ক্ষমতা থাকে, তবুও একজন নারী হিসেবে এই পদে আসীন হওয়াকে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নিয়োগের আগে তার দলের প্রভাবশালী রাজনীতিক ফাউজি লেকজার সাথে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল।
নির্বাচনের পর ফাতিমা জাহরা জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ সম্পূর্ণভাবে রাজার এখতিয়ার। দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য তাকে অন্যান্য দলের সাথে জোট গড়তে হবে। কিন্তু ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের সঙ্গে পিএএম-এর সম্পর্কের অবনতি ও জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্তে জোট গঠন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আব্দুল ইলাহ বেনকিরানের নেতৃত্বাধীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এরই মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা বিরোধী দলেই থাকবে এবং পিএএমের সঙ্গে জোট করবে না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফাতিমা জাহরা রাজাকে নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জানান, সরকারপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হলে তা হবে তার জন্য পরম সম্মানের। পেশায় আইনজীবী ফাতিমা তার কাজের ধরনে কঠোর হলেও, ‘লৌহমানবী’ তকমাটি তিনি নিজে নাকচ করে নিজেকে একজন সচেতন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এর আগে তিনি তৎকালীন জোট সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।